কয়েকদিন আগে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) ঘুরতে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান। সেখানে গিয়ে ফুটবল খেলেছেন, শিক্ষার্থীদের জীবন-যাপন দেখেছেন। বাংলাদেশের উঠতি খেলোয়াড়দের জীবন-যাপন তাকে মুগ্ধ করেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট করেছেন। জাইমার ফেসবুক পোস্টটি তুলে ধরা হল-
‘আপনি কি জানেন- ফুটবল, ক্রিকেট থেকে শুরু করে জুডো, অ্যাথলেটিক্সসহ অন্যান্য অনেক শাখায় বাংলাদেশের অসংখ্য জাতীয় ক্রীড়াবিদ বিকেএসপি থেকেই উঠে এসেছেন?’
‘১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) দেশের ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাণকেন্দ্র। এটি একটি জাতীয় আবাসিক ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান, যেখানে তরুণ প্রতিভাদের বাছাই করে বিশেষায়িত ক্রীড়া পরিবেশে শিক্ষা দেয়া হয়, প্রশিক্ষণ দেয়া হয় এবং সার্বিক সহায়তা প্রদান করা হয়।’
জাইমা মুগ্ধতার কথা উল্লেখ করে লিখেছেন, ‘তবে শুধু প্রতিভা নয়, আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে শৃঙ্খলা, আনন্দ এবং চারিত্রিক বৈশিষ্ট বিরাজমান- তা সত্যিই অনন্য। শিক্ষক, কোচ, চিকিৎসক দল এবং কর্মীরা নিষ্ঠার সাথে প্রত্যেক শিশুকে তার সেরাটা অর্জনে সাহায্য করছেন। বিকেএসপিতে একটি আন্তরিক সম্প্রীতি ও শিক্ষার পরিবেশ রয়েছে, যেখানে ক্রীড়াঙ্গনের উদীয়মান তারকারা স্বপ্ন দেখতে পারে, বেড়ে উঠতে পারে এবং নিজেদের বিকশিত করতে পারে।’
‘কিন্তু একটি প্রশ্ন বারবার আমার মনে আসছিল- এত প্রতিভা আর এত নিবেদিতপ্রাণ কোচ থাকার পরেও কেন আমরা আরও বেশি আন্তর্জাতিক পদক, পোডিয়াম বিজয়ে করতে পারছি না?’

‘এর একবাক্যের সহজ কোনো উত্তর নেই। তবে একটি বিষয় লক্ষ্মণীয়: আমাদের অ্যাথলেটদের আরও বেশি খেলাধুলা করার সুযোগ দরকার, আরও বেশি আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা দরকার। ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশে, কঠিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে, দক্ষিণ এশিয়ার বাইরে সমগ্র বিশ্বময় এবং অল্প বয়স থেকেই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ প্রয়োজন।’
‘আমাদের ক্রীড়াবিদরা প্রস্তুত। তারা প্রতিযোগিতা করতে চায়। তারা সেরাদের বিরুদ্ধে নিজেদের যাচাই করতে চায়, বাংলাদেশের পতাকা বহন করতে চায় এবং দেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে অবদান রেখে যেতে চায়।’
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে ধারাবাহিক পরিকল্পনার দরকার উল্লেখ করে জাইমা আরও লিখেছেন, ‘সুসংগঠিত ও ধারাবাহিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এই তরুণ অ্যাথলেটদের বিশ্বমঞ্চের জন্য যোগ্য করে তুলতে যে প্রশিক্ষণ, অর্থায়নসহ অন্যান্য যে সকল সহায়তা পাওয়া উচিৎ তা নিশ্চিত করতে হবে। এর মানে হলো আরও বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ ও ক্যাম্প, শক্তিশালী স্পোর্টস সায়েন্স ও পুনরুদ্ধার সহায়তা এবং প্রতিটি ক্রীড়াক্ষেত্রের জন্য আলাদা আলাদা উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রয়োজন। যেখানে প্রশিক্ষণ, প্রতিযোগিতার সময়সূচি, শিক্ষা এবং সুস্থতা সব মিলিয়ে একটি সমন্বিত ব্যবস্থা থাকবে।’

‘এর সঙ্গে থাকতে হবে পড়াশোনা ও নাগরিক দায়িত্বের মধ্যে ন্যায়সংগতভাবে ভারসাম্য রক্ষার একটি আধুনিক পাঠ্যক্রম। কোনো শিশুকে যেন একাডেমিক শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার মধ্যে একটি বেছে নিতে না হয়- দুটিই যাতে সমানতালে চলমান থাকে তার উপযুক্ত পন্থা প্রণয়ন করতে হবে।
‘বিশ্বের অন্যান্য দেশ দেখিয়েছে যে, একাডেমিক মান বজায় রেখেও অ্যাথলেট-কেন্দ্রিক শিক্ষা ও সুস্থতার ব্যবস্থা তৈরি করা সম্ভব। বাংলাদেশেরও উচিত নিজের বাস্তবতার সঙ্গে মানানসই একটি ব্যবহারিক মডেল প্রতিষ্ঠা করা।’
‘আমাকে একজন গর্বিত বাংলাদেশি হওয়ার আরেকটি কারণ দেওয়ার জন্য বিকেএসপির সবাইকে ধন্যবাদ।’







