যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশ তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) ২২টি অঙ্গরাজ্য এবং ওয়াশিংটন ডিসি তার এই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা করেছে। তারা ট্রাম্পের আদেশকে “সংবিধানবিরোধী” এবং “নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন” হিসেবে উল্লেখ করেছে।
১৮টি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল এবং সান ফ্রান্সিসকো শহর একত্রে একটি মামলায় দাবি করেছে, ট্রাম্প একটি “প্রতিষ্ঠিত এবং দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক অধিকার” নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাতিল করার চেষ্টা করছেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, “সংবিধান বা আইনের অন্য কোনো উৎস থেকে প্রেসিডেন্টের এই ধরনের ক্ষমতা নেই যে তিনি জন্মগত নাগরিকত্ব সীমিত করতে পারবেন।”
মামলার ভিত্তিতে বলা হয়েছে, এই নির্বাহী আদেশ কার্যকর হলে প্রতি বছর প্রায় ১,৫০,০০০ শিশু যাদের বাবা-মা উভয়ই অনিবন্ধিত অভিবাসী, তারা নাগরিকত্ব হারাবে। এর ফলে তারা স্বাস্থ্যসেবা, শিশু যত্ন এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাথমিক সুযোগ-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হবে। অনেক শিশু রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়বে এবং দেশ থেকে বহিষ্কারের ঝুঁকিতে থাকবে।
নিউ জার্সির অ্যাটর্নি জেনারেল ম্যাথিউ প্লাটকিন বলেন, “১৫০ বছরের বেশি সময় ধরে আমরা একটি মৌলিক নিয়ম অনুসরণ করেছি-এই দেশে জন্ম নেওয়া প্রত্যেকেই নাগরিক। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ কেবল একটি আইন আক্রমণ নয়, বরং এটি আমাদের জাতীয় অঙ্গীকার এবং সংবিধানের ওপর আক্রমণ।”
নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিটিয়া জেমস বলেন, “১৪তম সংশোধনীতে জন্মগত নাগরিকত্বের অধিকার দেওয়া হয়েছে, যা দাসত্বের অবসানের পর যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি আমাদের দেশের একটি মৌলিক অধিকার এবং এটি রক্ষার জন্য আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।”
ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বন্টা বলেন, “আমরা প্রস্তুত আছি দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় আমাদের অর্জিত অগ্রগতির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে।”
এদিকে, ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে ম্যাসাচুসেটস ও নিউ হ্যাম্পশায়ারের বেশ কয়েকটি অলাভজনক সংস্থা ফেডারেল আদালতে মামলা করেছে।
মামলার পক্ষগুলো ট্রাম্পের আদেশটি অবৈধ ঘোষণা করে তা কার্যকর হওয়া থেকে বিরত রাখার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করেছে। এটি এখন সুপ্রিম কোর্টের বিবেচনাধীন, কারণ জন্মগত নাগরিকত্বের সংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করার এখতিয়ার শুধুমাত্র সুপ্রিম কোর্টের রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই নির্বাহী আদেশের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগত নাগরিকত্ব নিয়ে একটি দীর্ঘ আইনি লড়াই শুরু হতে যাচ্ছে।







