“আমাদের একটা বড় চ্যালেঞ্জ ছিলো ফেরদৌসী আপাকে ঢাকার বাইরে নিয়ে যাওয়া। তিনি অনেকদিন কাজ করেন না। ‘আগন্তুক’-এর জন্য তাকে যে রাজি করাতে পেরেছি, এটাই আমার জন্য বড় সফলতা মনে করি; সিনেমা কী হয়েছে না হয়েছে সেটা পরের বিষয়।”
২৩তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘আগন্তুক’ এর বাংলাদেশ প্রিমিয়ারে কথাগুলো বলছিলেন তরুণ নির্মাতা বিপ্লব সরকার। শনিবার দুপুর ৩টায় জাতীয় জাদুঘরের মূল মিলনায়তনে সিনেমাটির প্রদর্শনী শুরু হয়। তার আগে সিনেমার শিল্পী, কলাকুশলীদের নিয়ে মঞ্চে উঠেন বিপ্লব।
‘আগন্তুক’-এ গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন এক কালের দর্শক নন্দিত অভিনয়শিল্পী ফেরদৌসী মজুমদার। শারীরিক অবস্থা খুব বেশী ভালো নেই তার, হাঁটতে কিছুটা সমস্যা হয়। তবু এদিন দাম্পত্য সঙ্গী রামেন্দু মজুমদার ও কন্যা ত্রপা মজুমদারকে নিয়ে প্রদর্শনীতে উপস্থিত হন তিনি। ‘আগন্তুক’-এর অন্য শিল্পী কলাকুশলীদের সাথে মঞ্চেও উঠেন ফেরদৌসী মজুমদার।

পরিচিতি পর্ব শেষে নির্ধারিত সময়ের দশ মিনিট পর শুরু হয় ‘আগন্তুক’ প্রদর্শনী। পুরো ছবিটি দর্শকের সাথে বসে উপভোগ করেন ফেরদৌসী মজুমদারসহ অন্যান্য শিল্পী ও কলাকুশলীরা। এসময় প্রদর্শনীতে আরো উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা মুহাম্মদ কাইউম, আকরাম খান, চলচ্চিত্র সমালোচক এনায়েত করিমসহ বহু প্রবীন নবীন চলচ্চিত্রকর্মীরা।
দুপুর ৩টার এই শো’টি ছিলো রীতিমত হাউসফুল। ৮১ মিনিট ব্যাপ্তীর এই সিনেমা শেষে দর্শকদের সাথে কথা বলেন নির্মাতা, শিল্পী ও কলাকুশলীরা।
এসময় ফেরদৌসী মজুমদার বলেন, আমিও প্রথমবার সিনেমাটি দেখলাম। সিনেমাটি একটু ধীর, এছাড়া সবাই খুব দারুণ লেগেছে। ক্যামেরার কাজ, অভিনয়, বিপ্লবের পরিশ্রম- সবই সিনেমায় ফুটে উঠেছে। আমাকে যে সম্মান দেয়া হলো, তার জন্য বিপ্লব ও তার পুরো টিমকে ধন্যবাদ জানাই। আশা করবো, আমি না থাকলেও আগামিতে বিপ্লব আরো ভালো কাজ আমাদের উপহার দিবে।

এসময় ‘আগন্তুক’-এ বিপ্লব যে কনটেক্সট তুলে ধরেছেন, তার ভূয়সী প্রশংসা করেন নির্মাতা আকরাম খান ও এনায়েত করিম বাদল।
২০২৩ সালে বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে জায়গা করে নিয়েছিলো ‘দ্য স্ট্রেঞ্জার’ (আগন্তুক)। প্রথমবার বড়পর্দায় ঢাকার দর্শক দেখলো এই ছবিটি। সাধারণ দর্শকও সিনেমাটি দেখে প্রশংসা করেছেন।
ফেরদৌসী মজুমদার ছাড়াও ‘আগন্তুক’-এ অভিনয় করেছেন শাহানা রহমান সুমী, রতন দেব, ইহান রশীদ, সালমান রহমান প্রমুখ। ছবির চিত্রগ্রহণে আছেন মাজহারুল রাজু, শিল্প নির্দেশনায় যৌথভাবে রয়েছেন ওয়াকিলুর রহমান ও সাদ্দাম খন্দকার জয়।








