‘কেউ বলতে পারবে না এখানে কেউ ছয়-চার মারতে পারে না। তার গুণ নাই। যারা জাতীয় দলে আসে, তাদের কোয়ালিটি অবশ্যই শতভাগ করেই বাংলাদেশ দলে খেলতে হয়। আমার কাছে মনে হয় সবার কোয়ালিটি আছে। পাওয়ার হিটিং কোয়ালিটি সবার আছে।’
টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের ব্যাটারদের পাওয়ার হিটিংয়ের সক্ষমতা আছে দাবি করে অনুশীলনের ফাঁকে গণমাধ্যমের সামনে কথা বলেছেন টাইগার ক্রিকেটার এনামুল হক বিজয়।
২০ ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশ দলের ব্যাটারদের পাওয়ার হিটিংয়ের সক্ষমতা নিয়ে সবসময় থাকে প্রশ্ন। স্ট্রাইক রোটেট করতে না পারা নিয়ে থাকে সমালোচনা। দলের প্রতিষ্ঠিত ব্যাটারদের নেই ভালো স্ট্রাইক রেট। এরপরও বিজ্য মনে করেন সঠিক পরিকল্পনা করতে পারাটাই নাকি পাওয়ার হিটিংয়ের মূল পন্থা হওয়া উচিৎ।
‘এটা পরিকল্পনার বিষয়। কোন বোলারটাকে মারার জন্য বাছাই করব, কোন বোলারের বিপক্ষে সিঙ্গেল নিয়ে স্ট্রাইক রোটেশন করব, কোন সময়ে মারা উচিৎ, কোন সময়ে মারা উচিৎ না সেগুলো পরিকল্পনা করতে হবে। আমার মনে হয় অবশ্যই সবার কোয়ালিটি আছে।’
‘আপনি উপর থেকে যদি প্রতিটি ব্যাটসম্যানকে দেখেন, ধরেন আটটা-দশটা ব্যাটসম্যান থাকে দলে। সবাই দেখবেন কমবেশি ভালো মারতে পারে। আমার মনে হয় তাদেরকে নিজস্ব সময় দেয়া উচিৎ। ১০ বল ৫ বল ৩ বল ৪ বল। তারপর এক্সিকিউশন করলে আমার মনে হয় অবশ্যই প্রতিটি খেলোয়াড়ের চার ছয় মারার ক্ষমতা আছে।’
‘আমি ১০ বছর বিপিএল টি-টুয়েন্টি খেলেছি। বাংলাদেশের হয়ে টি-টুয়েন্টি খেলেছি। আমার কাছে মনে হয়েছে আমরা সবাই যে ট্যালেন্টেড খেলোয়াড়, যেভাবে পরিশ্রমী খেলোয়াড়, আমার কাছে মনে হয় পরিকল্পনাটা জরুরি। তারপর পাওয়ার হিটিং।’
তিন বছর পর জাতীয় দলে ফেরার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে টি-টুয়েন্টি সিরিজে মোটেও ভালো করতে পারেননি বিজয়। ৩ ম্যাচে করেছিলেন মাত্র ২৯ রান। জিম্বাবুয়ে সফরেও ছিলেন ব্যর্থ। ৩ ম্যাচে একশর সামান্য বেশি স্ট্রাইক রেটে তার ব্যাট থেকে এসেছিল ৫৬ রান। তবে এশিয়া কাপে সুযোগ পেয়ে নিজেকে মেলে ধরে ওপেনিংয়ে নেমে দলকে শুভসূচনা এনে দেয়ার প্রতিশ্রুতিটা তিনি দিয়ে রাখলেন।
‘টি-টুয়েন্টি অবশ্যই ঝুঁকিপূর্ণ খেলা। দলকে যতটা কমপ্যাক্ট পারফরম্যান্স দেয়া যায়, সেই চেষ্টা করেছি। বাট আমি অবশ্যই ওইরকম বড় রান করতে পারিনি। এশিয়া কাপ অনেক বড় মঞ্চ। ভালো খেলার সুযোগ এসেছে। আমি দলকে ইম্পপ্যাক্টফুলি কিছু দেয়ার চেষ্টা করবো। যাতে দলের জন্য শুভসূচনা করতে পারি।’
‘অবশ্যই জাতীয় দলে খেলা একটা স্বপ্নের বিষয়। প্রতিটি খেলোয়াড়ের ছোটবেলা থেকে জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন থাকে। সবাই চাচ্ছে দলের উপর থেকে স্কোর দাঁড় করায়ে দিলে তাদের জন্য সুবিধা হবে। আমি সেভাবেই অনুশীলন করছি যাতে বাংলাদেশকে দারুণ সূচনা এনে দিতে পারি।’
পাওয়ার হিটিং নিয়ে ক্রিকেটারদের হতাশ হওয়ার কারণ নেই বলে বিজয় দাবি করেছেন। তার মতে, অনুশীলনের মাধ্যমেই নাকি হিটিং স্কিলের উন্নতি ঘটানো সম্ভব। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের পরিবর্তে টি-টুয়েন্টিতে অধিনায়কত্ব পাওয়া সাকিব আল হাসান ও টেকনিক্যাল কনসালট্যান্ট হিসেবে দলের সঙ্গে যোগ দেয়া ভারতীয় কোচ শ্রীধরন শ্রীরামের অধীনে পাওয়ার হিটিংয়ে উন্নতি সম্ভব বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
‘এটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার বিষয়। একদিনে সব হয়ে যাবে না। অবশ্যই এটা তিন মাসে হবে, ছয় মাসে হবে। আমাদের প্রতিটা খেলোয়াড় যারা আছে, তারা শতভাগ এই জিনিসগুলাতে উন্নতির চেষ্টা করবে।’
‘শ্রীরাম আসার পর আমাদের দারুণ একটা মিটিং হয়েছে। বোলিং, ব্যাটিং, স্পিন, ফিল্ডিং ডিপার্টমেন্টে আমরা কীভাবে কী করবো না করবো সেগুলো নিয়ে কথা হয়েছে। আমার কাছে মনে হয়, আমরা পরিষ্কার মানসিকতার ভেতর আছি। প্রতিটি খেলোয়াড় তাদের কাজটা কী সেটা জানে। সবাই মনে করছি, আমরা দারুণ ইমপ্যাক্ট ফেলতে পারবো। সবাই শতভাগের বেশি দেয়ার চেষ্টা করবো, এই অঙ্গীকার সবাই করেছে। আমরা বিশ্বাস করি যে আমরা পারবো।’







