এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে গত মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে নেমেছিল বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে ২-১ গোলে হেরেছে হাভিয়ের ক্যাবরেরার দল। পরে বাংলাদেশ কোচের পরিকল্পনা ও রণকৌশল নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তাকে বরখাস্ত করার দাবিও উঠেছে। স্প্যানিশ কোচের পদত্যাগ দাবি করেছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কার্যনির্বাহী কমিটি এবং জাতীয় দল কমিটির সদস্য সাখাওয়াত হোসেন ভুঁইয়া শাহীনও।
রাজধানীর একটি ক্লাবে শনিবার গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। উপস্থিত ছিলেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল এবং অন্য সদস্যরা।
বাফুফের সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সভাপতিসহ বিভিন্ন কমিটির চেয়ারম্যানরা। শেষদিকে বাফুফের নির্বাহী সদস্য শাহীনকে অভ্যন্তরীণ অডিট ও গভমেন্ট রিলেশন নিয়ে আলোকপাত করার অনুরোধ জানান সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার।

শাহীন এ বিষয়ে বক্তব্য না রেখে জাতীয় দল কমিটির সদস্য হিসেবে ক্যাবরেরার পদত্যাগ দাবি করেন। ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে সাখাওয়াত বলেন, ‘আমি ন্যাশনাল টিম কমিটির সদস্য হিসেবে ১৮ কোটি মানুষকে মুক্ত করার জন্য হাভিয়ের ক্যাবরেরার পদত্যাগ চাচ্ছি। আমি ন্যাশনাল টিম কমিটির সদস্য হিসেবে ক্যাবরেরাকে কোচের পদ থেকে সরানোর দাবি জানাচ্ছি। ১৮ কোটি মানুষকে মুক্ত করা আমাদের দরকার। ধন্যবাদ।’
২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে কোচের দায়িত্বে আছেন ক্যাবরেরা। বাংলাদেশ জাতীয় দলে সবচেয়ে দীর্ঘসময় নিয়োগপ্রাপ্ত বিদেশি কোচ তিনি। তার সঙ্গে বাফুফের চুক্তি আগামী মার্চ পর্যন্ত। সেকথা তিনি সিঙ্গাপুর ম্যাচের আগেরদিন সংবাদ সম্মলনে মনেও করিয়ে দেন সাংবাদিকদের।
ক্যাবরেরার কাছে প্রশ্ন ছিল, সিঙ্গাপুর ম্যাচে হারলে চাকরি হারানোর আশঙ্কা করছেন কিনা। তিনি মেয়াদের কথা মনে করিয়ে দেন। তবে দুপক্ষ চাইলে সমঝোতার ভিত্তিতে আগেই চুক্তি শেষ হতে পারে।
ক্যাবরেরার পদত্যাগ দাবি করে বাফুফে সদস্যের বক্তব্য প্রসঙ্গে সভাপতি তাবিথ আউয়াল অবশ্য কিছুটা বিব্রতই হয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘যেটা হয়েছে সেটা অপ্রত্যাশিত। এটা নিয়ে আমরা ইন্টারনালি আলোচনা করবো।’
এরপর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নোত্তর পর্বেও একাধিক সাংবাদিক ক্যাবরেরাকে নিয়ে প্রশ্ন করেছেন। বাফুফে সভাপতি তাবিথ বেশ কয়েকবার উত্তর এড়িয়ে যান। পরে আবারও প্রশ্ন করা হলে বলেন, ‘এটা আসলে এখনও প্রি-ম্যাচিউর প্রশ্ন এবং উত্তর দিলেও প্রি-ম্যাচিউর হবে। আমাদের স্ট্যান্ডার্ড একটা প্রক্রিয়া রয়েছে। যেখানে জাতীয় দল কমিটি অ্যাসেসমেন্ট ও রিভিউ হবে। সেখানে অ্যাসেসমেন্ট হওয়ার পর আপনাদের প্রশ্ন নেয়া যাবে এবং উত্তরও দেয়া যাবে। ’
‘বিষয়টা নিয়ে আমরা নিজেদের মধ্যে কথা বলব। কোচের কাজের পর্যালোচনা হবে। সেটা হওয়ার পর কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রয়োজন হলে নেয়া হবে। তার আগ পর্যন্ত যেভাবে চলছে সেভাবে চলবে।’








