স্বাস্থ্য সচেতন অনেকেই তাদের খাদ্য তালিকায় রাখছেন নানা রকম স্বাস্থ্যকর খাবার। তেমনই একটি পুষ্টিকর উপাদান হচ্ছে মিষ্টি কুমড়ার বিচি। ছোট আকৃতির এই বিচিগুলোর গুণ কিন্তু অনেক বড়।
নিয়মিত কুমড়ার বিচি খাওয়ার অভ্যাস হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে সহায়তা করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য উন্নত করে।
যারা ঘুমের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্যও কুমড়ার বিচি হতে পারে একটি প্রাকৃতিক সমাধান। কারণ এতে রয়েছে ‘সেরোটোনিন’ নামক উপাদান, যা ঘুম আনতে সাহায্য করে।
চলুন জেনে নিই কুমড়ার বিচির আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য উপকারিতা—
১. পুষ্টিতে ভরপুর
কুমড়ার বিচিতে রয়েছে প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ফাইবার, ভিটামিন ই, ম্যাগনেসিয়াম, জিঙ্ক এবং লৌহ যা শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি পূরণে সহায়তা করে।
২. হৃদযন্ত্রের যত্নে কার্যকর
এতে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও ম্যাগনেসিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং হার্টের সুস্থতা বজায় রাখে।
৩. ইমিউন সিস্টেম মজবুত করে
জিঙ্কের উপস্থিতি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়, যা বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।
৪. হাড়ের গঠন শক্ত করে
ম্যাগনেসিয়াম ও ফসফরাস হাড়ের গঠন মজবুত রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
৫. মানসিক স্বাস্থ্যে সহায়তা
ট্রিপটোফ্যান নামক অ্যামাইনো অ্যাসিড সেরোটোনিন তৈরি করে, যা মন ভালো রাখে এবং ঘুমের উন্নতিতে সহায়তা করে।
৬. অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ
বিচিতে থাকা ভিটামিন ই ও অন্যান্য অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ফ্রি র্যাডিক্যালের ক্ষতি থেকে শরীরকে রক্ষা করে, বার্ধক্যজনিত সমস্যা কমায়।
৭. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
গ্লাইকেমিক ইনডেক্স কম হওয়ায় এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে।
৮. কোলেস্টেরল হ্রাস করে
বিচির ফাইবার ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে।
৯. ওজন কমাতে সাহায্য করে
ফাইবার বেশি থাকায় দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভব হয়, ফলে ক্ষুধা কম লাগে এবং ওজন কমানো সহজ হয়।
কীভাবে খাবেন?
কুমড়ার বিচি কাঁচা, ভাজা কিংবা সালাদের সাথে মিশিয়ে খাওয়া যায়। তবে মনে রাখতে হবে অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক নয়। প্রতিদিন ১-২ টেবিল চামচই যথেষ্ট।







