কিছু সুযোগ সুবিধার জন্য অযোগ্যে নেতার কাছে বিক্রি হলে দেশের পরিবর্তন সম্ভব নয় উল্লেখ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, ভালো নেতা খোঁজার আগে ভালো ভোটার হতে হবে। লোভ লালসার উর্ধ্বে থেকে সৎ ও বিবেকবান ভোটারাই যোগ্য প্রার্থী নির্ধারণ করতে পারলে আগামীতে দেশের কল্যাণ সম্ভব হবে।
বুধবার (২৮ মে) দুপুরে দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় এনসিপির পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, প্রশাসনে যারা ভালো কাজ করছেন তাদের সুনাম এবং যারা মন্দ কাজ করছেন তাদের বদনাম সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি দিয়ে পোস্ট করুণ। সারা দেশে ছড়িয়ে দিন। এতে প্রকৃত বিষয় ধরা পড়বে।
তিনি বলেন, আগামীর বাংলাদেশে কোন চাঁদাবাজ থাকবে না। যত ক্ষমতাধর হউক না কেন যেখানে চাঁদাবাজি হবে সেখানেই তাদের প্রতিহত করতে হবে। শেখ হাসিনার চেয়ে বড় চাঁদাবাজ আর কেউ ছিল না। তার যখন পতন হয়েছে, ঠিক সেভাবে দেশের সকল চাদাবাজদের পতন সম্ভব এবং আমরা সেটা করে দেখাব।
সারজিস বলেন, অনেকে মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানি করছে, থানায় ও ভূমি অফিসে এখনও ঘুষ নিচ্ছে। দেশের জনগণকে আওয়াজ তুলতে হবে। তা না হলে জুলাই আন্দোলন যে চেতনা থেকে হয়েছে তা সফল হবে না।
সারজিস আলম বলেন, যে জুলুম করে তার উপরও জুলুম নেমে আসে, যার বড় প্রমাণ শেখ হাসিনা। যারা মাদক ব্যবসা করছে, চাঁদাবাজি করছে তারা কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় এই কাজ করছে। কিন্তু তারা শেখ হাসিনার চেয়ে শক্তিশালী না। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। আর আপনাদের মতো দুয়েকজন পাতি মাস্তান-চাঁদাবাজকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেওয়া যাবে।
আমরা একবারও বলছি না যে, আপনারা আমাদের এনসিপির নেতাদেরকেই ভোট দিন। শুধু নেতা ভালো হলে হবে না, ভোটারদেরও ভালো হতে হবে। সামান্য কিছু টাকা ও সুবিধার জন্য খারাপ মানুষের কাছে নিজেদেরকে বিক্রি করে দেবেন না। যদি তা করেন তাহলে সুন্দর বাংলাদেশ গঠন সম্ভব হবে না। তাই আগামী নির্বাচনে দল কিংবা মার্কা দেখে নয়, সৎ এবং যোগ্যদের বেছে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা এক দিনে নয়, ১৫ বছরে দেশের সিস্টেমগুলো নষ্ট করেছে। তেমনি দেশ গঠনে সিস্টেমগুলোকে ঠিক করতে সময় লাগবে।
পথসভায় সারজিস আলমের নেতৃত্বে সারোয়ার সাঈদ লিওন, সাদিয়া ফারজানা, দিনাজপুরের একরামুল হক আবির, রেজাউল করিমসহ এনসিপির নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি সফরের দ্বিতীয় দিনে বোচাগঞ্জ, কাহারোল বীরগঞ্জ ও সদর উপজেলায় পথসভায় বক্তব্য রাখেন।







