ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান তুলে ধরে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেছেন, সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ভারতের প্রধান অগ্রাধিকার।
মঙ্গলবার (১২ মে) নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন। তবে এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না; এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে যান রণধীর জয়সোয়াল। তিনি শুধু বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়টিকেই ভারত অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
ব্রিফিংয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের বিষয়েও প্রশ্ন ওঠে। এই প্রসঙ্গে রণধীর জয়সোয়াল জানান, ভারতে অবৈধভাবে অবস্থান করছেন বলে সন্দেহভাজন ২ হাজার ৮৬০ জনের বেশি ব্যক্তির নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশকে অনেক আগেই অনুরোধ জানানো হয়েছে। ভারতের দাবি, তারা সবাই বাংলাদেশি নাগরিক। তবে এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি বাংলাদেশ।
অন্যদিকে, তিস্তা উন্নয়ন প্রকল্প নিয়েও ব্রিফিংয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সম্প্রতি চীনের সহযোগিতা চাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রণধীর জয়সোয়াল সরাসরি মন্তব্য না করে বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারত পারস্পরিক স্বার্থ ও পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখে।
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বাংলাদেশে বিভিন্ন মহলে ভিন্ন প্রতিক্রিয়ার প্রসঙ্গ টেনে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করলে জয়সোয়াল বলেন, ভারত সবসময়ই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে ইতিবাচকভাবে এগিয়ে নিতে চায় এবং সেই অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য বিএসএফ-কে ৪৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় জমি বুঝিয়ে দেওয়া হবে। পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের বলেন, কাঁটাতার দিয়ে বাংলাদেশকে ভয় দেখানোর সুযোগ নেই। বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ কাঁটাতারকে ভয় পায় না।








