একসময় বাণিজ্যিক সিনেমার জনপ্রিয় মুখ ছিলেন বাপ্পী চৌধুরী। নিয়মিত সিনেমায় কাজ করতেন, পরিচালকদের কাছে শাকিব খান পরবর্তী মাঝারি বাজেটের সিনেমায় তাকে বিকল্প হিসেবে ভাবা হতো।
২০১২ সালে চলচ্চিত্রে অভিষেকের পর কয়েকটি হিট ছবি উপহার দেন বাপ্পী। মাহিয়া মাহি ও আঁচলের সঙ্গে জুটি গড়ে শুরুর দিকে দর্শকের ভালোবাসাও কুড়িয়েছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে সেই জনপ্রিয়তা টেকেনি।
প্রায় এক যুগের ক্যারিয়ারে ৫০টির মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করলেও গত দুই বছর ধরে তিনি পুরোপুরি আড়ালে। সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত শত্রু, জয় বাংলা ও কুস্তীগির ছবিগুলো ব্যবসায় ভরাডুবির মুখে পড়ে। এরপর আর ক্যামেরার সামনে পাওয়া যায়নি তাকে।

এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সরব নন নায়ক বাপ্পী। গেল শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচনে করেও হেরেছিলেন এই নায়ক।
২০২৪ সালের মার্চে মাকে হারিয়ে ইন্ডাস্ট্রি থেকে অনেকটাই দূরে সরে গেছেন বাপ্পী। তারপর সময় নিয়ে বারবার কামব্যাক করতে চাইলেও তাকে পাওয়া যায়নি রূপালী পর্দায়।
বাপ্পীর কাছের মানুষরা প্রায়ই বলে থাকেন, বাপ্পী সিনেমা ছেড়ে দিয়েছেন। তাকে নিয়ে কেউ সিনেমা করতে চান না! এমনকি নায়িকা আঁচল দুবছর আগে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, বাপ্পীকে নিয়ে ছবি বানাতে প্রযোজকদের বললে কেউ রাজি হয় না।
নতুন কাজে ফেরা প্রসঙ্গে বাপ্পী আগেই বলেছিলেন, মানসিকভাবে আমি একফোঁটাও হতাশ নই। আমি মনে করি, যার কাছে বিকল্প থাকে, তিনি কখনো হতাশ হন না। আমি প্রতি সপ্তাহে সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব পাই। গল্প পছন্দ হয় না বলে সিনেমা ছাড়ছি। তাই আমার হতাশার তো প্রশ্নই আসে না।

জানা যায়, বাপ্পী বর্তমানে তাদের পারিবারিক ব্যবসা দেখাশোনা করছেন। এই অভিনেতা বলেন, ফ্যামিলি ওরিয়েন্টেড কাজে সময় ব্যয় করছি। পারিবারিক ব্যবসা আছে, সেখানেও গিয়ে বসছি। মানে আমার যে শুটিংয়ের টাইম, সেই টাইমে পারিবারিক ব্যবসা একটু দেখাশোনা করছি। তবে শিগগিরই ক্যামেরার সামনে ফিরব।
বাপ্পী চৌধুরী অভিনীত পাঁচ বছর আগে সিক্রেট এজেন্ট, ঢাকা ২০৪০, ভোলা, আ জার্নি উইথ ইউ সিনেমাগুলোর শুটিং অসম্পূর্ণ রয়েছে।
তবে এই সিনেমাগুলো কখনোই আর আলোর মুখ দেখবে না। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে অনেক প্রযোজক দেশ ছেড়েছেন। তাছাড়া আগের মতো বাপ্পীর বাজারও নেই!








