‘গ্রাম ও উপজেলা পর্যায় থেকে আমানত সংগ্রহ করে তা শহরের দুর্বৃত্তদের লুটপাটের সুযোগ করে দেওয়া আর চলবে না’—এমনই কড়া বার্তা দিয়েছে জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ।
জেলারসমূহের আমানত যেন সেখানেই ঋণ হিসেবে বিতরণ করা হয়, এই নীতি বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়েছেন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবং সিইও মজিবর রহমান।
জনতা ব্যাংকের সিলেট বিভাগীয় সম্মেলনে এই বক্তব্য দেন তারা।
বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দুরবস্থায় রয়েছে জনতা ব্যাংক। ব্যাংকটির মোট বিতরণ করা ঋণের ৭২ শতাংশই এখন খেলাপি।
পুঞ্জীভূত লুটপাট এবং অদক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে এই অবস্থায় পড়া ব্যাংকটি পুনরুদ্ধারে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারই অংশ হিসেবে এই বিভাগীয় সম্মেলনের আয়োজন।
জনতা ব্যাংকের সিইও ও এমডি মজিবর রহমান বলেন, আমরা ‘ঋণ করে ঘি খাওয়া’র নীতিতে আর চলতে পারি না। ঋণ বিতরণ নয়, এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য হবে ঋণ আদায় নিশ্চিত করা।
জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান বলেন, প্রত্যেক শাখাকে বুঝতে হবে, তারা যেখানে আমানত সংগ্রহ করে, সেখানকার মানুষদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য সেখানেই ঋণ দিতে হবে। শহরে নিয়ে গিয়ে সেটা লুটপাট করানোর সুযোগ আর থাকবে না।
সিলেট বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ অঞ্চলে জনতা ব্যাংকের মোট ৬০টি শাখা রয়েছে। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত এসব শাখা প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার আমানত সংগ্রহ করেছে। কিন্তু ঋণ বিতরণ হয়েছে মাত্র ৫৭৭ কোটি টাকা, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এক বড় ব্যবধান সৃষ্টি করেছে।
ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ মনে করে, এই ব্যবধান দূর না হলে আস্থার সংকট আরও বাড়বে, এবং তা ব্যাংকের সার্বিক সেবার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সম্মেলনে শাখা ব্যবস্থাপক ও বিভাগীয় কর্মকর্তাদের স্থানীয় পর্যায়ে উদ্যোক্তা চিহ্নিত করে ঋণ বিতরণে উৎসাহিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।








