নারীর উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ ও পুঁজির প্রবেশাধিকার বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে (ইউএনজিএ) এক অনুপ্রেরণামূলক ভাষণ দিয়েছেন বাংলাদেশের গর্ব ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত আইনজীবী, ব্যবসায়ী নেত্রী ও শিক্ষাবিদ মোহাইমিনা মিনা হক। তাঁর এই বক্তব্য ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচিত হয়েছে এবং নিউ ইয়র্কের ফক্স টিভি তা বিশেষভাবে প্রচার করেছে।
নারী নেতৃত্ব ও পুঁজি প্রবেশাধিকারে নতুন দিগন্তের কণ্ঠস্বর
জাতিসংঘে তাঁর ভাষণে মিনা হক বিশ্বব্যাপী নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসার সুযোগ ও পুঁজির প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার বাস্তব চ্যালেঞ্জ ও সমাধান নিয়ে কথা বলেন। নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে একাধিক পুরুষপ্রধান শিল্পে তিনি নেতৃত্ব স্থাপন করেছেন এবং অন্য নারীদের জন্য পথ উন্মুক্ত করেছেন।

মিনা হক বলেন, আমার বিষয় ছিল মালিকানা সম্ভব করা: নারী, মূলধন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোক্তার ভবিষ্যৎ।
কে এই মোহাইমিনা মিনা হক
- মিনা হক হলেন নারী নেতৃত্ব, আইন, ব্যবসা ও শিক্ষার এক অনন্য সংযোগস্থল—
- টনি রোমাস-এর সিইও: ৫৩ বছরের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধান নির্বাহী, যিনি পাঁচটি মহাদেশে ব্র্যান্ডটির কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
- ওয়াশিংটন ডিসির আইনজীবী: ওয়াশিংটন ডিসিতে নিজস্ব প্রতিষ্ঠান ল’ অফিস অব মোহাইমিনা হক পিএলএল–এর প্রতিষ্ঠাতা।
- আইন অধ্যাপক: আমেরিকান ইউনিভার্সিটি ওয়াশিংটন কলেজ অব ল’–এর শিক্ষক।
- জাতিসংঘ বক্তা: নারী উদ্যোক্তা ও পুঁজির প্রবেশাধিকার বিষয়ে বৈশ্বিক নেতাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রেখেছেন।
- বাংলাদেশি-আমেরিকান অগ্রদূত: অভিবাসী জীবনের সংগ্রাম পেরিয়ে সফলতার গল্প হয়ে উঠেছেন লক্ষ লক্ষ মানুষের অনুপ্রেরণা।
তাঁর বার্তা কেন গুরুত্বপূর্ণ
- মিনার বক্তব্য শুধুই তত্ত্ব নয়, বরং জীবনের কঠিন বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে উঠে এসেছে:
- ৫৩ বছর পুরনো একটি ব্র্যান্ডের প্রথম নারী সিইও হিসেবে সি-স্যুটে প্রবেশের গল্প।
- সফল আইনজীবী ও শিক্ষক হিসেবে ভূমিকা পালন করতে গিয়ে মাতৃত্ব ও পেশার ভারসাম্য রক্ষার অভিজ্ঞতা।
- বিশ্বজুড়ে নারী উদ্যোক্তারা যে পুঁজিতে প্রবেশাধিকারের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হন, তা অতিক্রমের পথ।
- ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নারীদের জন্য ব্যবসা ও নেতৃত্বের নতুন পথ তৈরি করার অঙ্গীকার।
সাম্প্রতিক স্বীকৃতি ও গণমাধ্যমে উপস্থিতি
- ফক্স টিভি: তাঁর জাতিসংঘ ভাষণ ও নেতৃত্ব নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন।
- গোল্ড স্টিভি অ্যাওয়ার্ড (২০২৫): সংগঠন পুনরুদ্ধারে অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য।
- বেলা ম্যাগাজিন (মার্চ ২০২৫): উইমেন অব ইনফ্লুয়েন্স সংখ্যায় ফিচার।
- টপ উইমেন লিডারস অব ডিসি: উইমেন উই আ্যাড্মায়ার-এর তালিকায়।
- টপ অ্যাটর্নি অব দ্য ইয়ার (২০২৩): ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব টপ প্রফেশনালস।
- পাওয়ার প্লেয়ার অ্যাওয়ার্ড: ডিসি ম্যাগাজিন মডার্ন লাক্সারি।
- ব্লুমবার্গ সাক্ষাৎকার: ব্যবসা কৌশল ও নেতৃত্ব নিয়ে একাধিক আলোচনা।
- ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম ও কানে লায়ন্সের মতো বৈশ্বিক ইভেন্টে নিয়মিত উপস্থিতি।
- সাকসেস ম্যাগাজিন (২০২৫): উইমেন অব ইনফ্লুয়েন্স হিসেবে স্বীকৃতি।
- ফোর্বস ও এনট্রেপ্রেনার ম্যাগাজিনে ফিচার।
তাঁর মিশন ও দর্শক প্রাসঙ্গিকতা
নারীদের ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা ভাঙতে ও পুঁজির প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে অনুপ্রাণিত করাই মিনার মূল লক্ষ্য। একজন বাংলাদেশি-আমেরিকান নারী হিসেবে তাঁর অর্জন অনুপ্রাণিত করে:
- নারী উদ্যোক্তাদের, যারা বাস্তব পরামর্শ ও রোল মডেল খুঁজছেন। অভিবাসী সমাজকে, যারা আমেরিকান স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে চায়।
- তরুণ পেশাজীবীদের, যারা কর্মজীবনের চ্যালেঞ্জ পেরোতে চায়। নেতৃত্ব, দৃঢ়তা ও বাধা ভাঙার গল্পে আগ্রহী যে কাউকে।
এক অনুপ্রেরণাদায়ক যাত্রাপথ
তাঁর গল্প দর্শকদের সামনে তুলে ধরবে:
✓ প্রতিবন্ধকতা পেরোনোর অনুপ্রেরণা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা
✓ এক শক্তিশালী বাংলাদেশি-আমেরিকান সাফল্যের কাহিনি
✓ নারী উদ্যোক্তা ও পুঁজির প্রবেশাধিকারে বিশেষজ্ঞ মতামত
✓ নেতৃত্ব রূপান্তরের বাস্তব উদাহরণ
✓ ব্যবসায়ে প্রতিনিধিত্বহীন সম্প্রদায়ের কণ্ঠস্বর
পেশাগত জীবনের দৃঢ় ভিত্তি
- হোয়াইট হাউস ইন্টার্নশিপ (ওবামা প্রশাসন): ডোমেস্টিক পলিসি কাউন্সিল।
- যুক্তরাষ্ট্র বিচার বিভাগ ( এন্টিট্রাস্ট ডিভিশন): অ্যাসিস্টান্ট অ্যার্টনি জেনারেলস অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত।
- এইচইউডি (হাউজিং অ্যান্ড আরবান ডেভেলপমেন্ট বিভাগ): গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
- ক্যাপিটল হিল: সেনেটর এডওয়ার্ড কেনেডি ও মার্ক ওয়ার্নারের অফিসে কাজ।
- জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়: স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি।
- আমেরিকান ইউনিভার্সিটি ওয়াশিংটন কলেজ অব ল’: জুরিস ডক্টরেট (জেডি) – কাম লাউড।
জাতিসংঘে তাঁর ভাষণ ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের মনোযোগ পেয়েছে। আর্টিকুলেইট, অভিজ্ঞ ও বিশ্বব্যাপী নারী ক্ষমতায়নের প্রতি গভীরভাবে নিবেদিত মিনা হক দুই কন্যার মা, এবং তাঁর কণ্ঠ আজ নারীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে।
বাংলাদেশি নারী উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে মোহাইমিনা হক চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন,“আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের নারী উদ্যোক্তারা শুধু দেশে নয়, সারা বিশ্বেই অসাধারণ কাজ করছেন। তাঁরা প্রতিনিয়ত প্রমাণ করছেন- প্রতিভা, অধ্যবসায় আর সৃজনশীলতার শক্তি কোনো ভৌগোলিক সীমারেখায় আবদ্ধ নয়।”
তিনি বলেন, নারী উদ্যোক্তা হিসেবে এগিয়ে যেতে হলে আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো খোলা মন। প্রতিটি অভিজ্ঞতা থেকে শেখা, প্রতিটি ব্যর্থতাকে নতুন শিক্ষার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা— এই মানসিকতা আমাদের আরও শক্তিশালী করে। আমি সবসময় বলি লার্ন, আনলার্ন, রিলার্ন— এই প্রক্রিয়াই আপনাকে সময়ের সাথে এগিয়ে নেবে।
“বাংলাদেশি নারীদের আমি শুধু উদ্যোক্তা হিসেবেই নয়, পরিবর্তনের দূত হিসেবে দেখি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পথ তৈরি করার দায়িত্ব আমাদের সবার, আর আমি নিশ্চিত- বাংলাদেশি নারীরা সেই দায়িত্ব সফলভাবেই পালন করবেন।” বলেন তিনি।









