মঙ্গলবার হারারে স্পোর্টস গ্রাউন্ডে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে বাংলাদেশকে ১০ রানে হারিয়েছে জিম্বাবুয়ে। ২৮ বলে ৫৪ রান করে স্বাগতিকদের জয়ের নায়ক রায়ান বার্ল।
এর আগে সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশকে ১৭ রানে হারিয়ে শুভসূচনা করেছিল জিম্বাবুয়ে। দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ড়ায় টাইগাররা। স্বাগতিকদের হারায় ৫ উইকেটে।
মাঝারি লক্ষ্য তাড়ায় মিডল ওভারে ধীরগতির খেলাই যেন ডোবাল মোসাদ্দেক হোসেনের দলকে। ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা টাইগারদের ৫ ওভারে দরকার ছিল ৫৮ রান। শেখ মেহেদী ও আফিফ হোসেন লড়াইটা চালিয়ে গেলেও ৪৭ রানের বেশি করতে পারেননি। আর তাতে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশকে টি-টুয়েন্টি সিরিজ হারানোর স্বাদ পেল জিম্বাবুয়ে।
এখন পর্যন্ত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মোট ৬টি সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ। তাতে ২টি সিরিজ ড্র হলেও কখনো বাংলাদেশকে সিরিজ হারাতে পারেনি ক্রেইগ আরভিনের দল। এবার সে স্বপ্ন পূরণ করে ছাড়ল রাজা-বার্লরা।
সিরিজ নির্ধারণী টি-টুয়েন্টি ম্যাচে বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক হয়েছে পারভেজ হোসেন ইমনের। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী দলের ওপেনার সুযোগ পাওয়ায় বাদ পড়েছেন মুনিম শাহরিয়ার।
সিরিজের শেষ ম্যাচে সহজ লক্ষ্য পেতে পারত বাংলাদেশ। কিন্তু নাসুম আহমেদের এক ওভারে রায়ান বার্ল ৩৪ রান তুলে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন সফরকারীদের।
ম্যাচে সাফল্যের শুরুটা অবশ্য নাসুমের হাত ধরেই ছিল। নিজের প্রথম বলেই তুলে নেন উইকেট। দেন মাত্র ৬ রান। তখন কে জানত কতটা হতাশার অভিজ্ঞতা অপেক্ষা করে তার সামনে।
নাসুম ব্রেক থ্রু আনার পর শেখ মেহেদী হাসানের জোড়া শিকারে স্বস্তি ফেরে বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমে। জিম্বাবুয়েকে একদম চেপে ধরেন টাইগার স্পিনাররা।
অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত নিজের প্রথম ওভারে ১৫ রান খরচ করলেও পরে বোলিংয়ে এসে পান সাফল্য। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ প্রথম বলেই পান উইকেট। ১০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৫৬ রান তোলে জিম্বাবুয়ে। একশর মধ্যে প্রতিপক্ষকে আটকানোর সুযোগ তৈরি হয়।
কিন্তু ১৫তম ওভারে সব হিসেব বদলে যায়। অল্পের জন্য হয়নি ওভারে ৬ ছক্কার রেকর্ড। হাসান মাহমুদ দুটি ও মোস্তাফিজুর রহমান একটি উইকেট তুলে ১৫৬ এর বেশি করতে দেননি জিম্বাবুয়েকে।
নাসুমের ওভারে পাঁচটি ছয় ও একটি চার মারা বার্ল ২৮ বলে ৫৪ রান করেন। লুক জঙ্গের ব্যাট থেকে আসে ২০ বলে ৩৫ রান। ৬৭ রানে ৬ উইকেট হারানো দলকে পথ দেখান তারা। জুটিতে সর্বোচ্চ স্ট্রাইক রেটের রেকর্ডও গড়েন। ৩১ বলের জুটিতে দুজনে যোগ করেন ৭৯ রান।
মাঝারি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই লিটন দাসের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওভারে নায়ুচির বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ডানহাতি এ ব্যাটার। অভিষিক্ত পারভেজ ইমনও থিতু হতে পারেননি বেশিক্ষণ। ২ রান করে নায়ুচির বলে ক্যাচ দিয়েছেন মিড অনে।
১৩ বলে ১৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন এনামুল হক বিজয়ও। চতুর্থ উইকেটে নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন মাহমুদ উল্লাহ রিয়াদ। তবে রান রেট কম থাকায় চাপ বাড়তে থাকে এসময়। ২০ বল খরচে ১৬ রান করে উইলিয়ামসের বলে ক্যাচ হয়ে ফেরেন শান্ত।
পঞ্চম উইকেটে আফিফ হোসেনকে নিয়ে ৩৯ রানের জুটি গড়েন মাহমুদ উল্লাহ। সাবেক এ অধিনায়ক ২৭ রান করে ফিরলে আবারও চাপে পড়ে বাংলাদেশ। পরের বলেই আউট হন অধিনায়ক মোসাদ্দেক হেসেন। শেষদিকে শেখ মেহেদী ও আফিফ বেশ প্রতিরোধ দেখালেও ১৪৬ রানের বেশি করতে পারেনি টাইগাররা।








