বাংলাদেশের মেয়েদের জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়কত্বের আর্ম ব্যান্ডটা প্রায় আট বছর ধরে পরে আছেন সাবিনা খাতুন। স্ট্রাইকিং পজিশনে খেলা তারকা ফুটবলার অবশ্য চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে দুই ম্যাচে পুরো সময় খেলেননি। প্রথমটিতে বিরতির পর তাকে বেঞ্চে বসানো হয়। দ্বিতীয় খেলায় শুরুর একাদশে তার নাম না দেখে সকলেই হন বিস্মিত। চোট সমস্যার জন্য নেই-এমন খবর আগে জানা গেলেও তার সত্যতা অবশ্য পরে প্রমাণিত হয়নি। ৭৯ মিনিটের মাথায় তাকে খেলতে নামান ফিলিপ জেমস বাটলার। খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তাকে পুরো ম্যাচ না খেলানোর স্পষ্ট কারণ জানিয়ে দেন ফুটবল কন্যাদের অন্তর্বর্তীকালীন কোচ।
অর্ধশতাধিক আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সাবিনাকে না খেলানো নিয়ে অবধারিত প্রশ্নের জন্য বাটলার যেন প্রস্তুতই ছিলেন। পরিষ্কার ভাষায় বললেন, ‘সত্যি বলতে আমার মনে হয়েছে সাবিনা ক্লান্ত, এ কারণে শুরু থেকে তাকে খেলাইনি। আমি তাকে সাহায্য করার চেষ্টা করছি। আশা করি, সে সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে নেবে।’
‘সাবিনা খুব ভালো মেয়ে। তার অসাধারণ ক্যারিয়ারের প্রতি আমার পরিপূর্ণ শ্রদ্ধা আছে। কিন্তু আপনার যখন বয়স হতে থাকবে, কখনো কখনো আপনার মস্তিষ্ক যেটা বলবে, সেটা আপনি করতে পারবেন না। আমি নিজেও এর মধ্য দিয়ে গেছি। সাবিনারও এখন এই অবস্থা।’
বাংলাদেশের ফুটবলের ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাস্টিককে শেষের দিকে নামানো নিয়ে বাটলারের ভাষ্য, ‘আমি মনে করেছি সাবিনাকে যদি ১৫-২০ মিনিট খেলানো যায়, তাহলে আমার মনে হয় সে প্রভাব রাখতে পারবে। আমরা একটা পথ খুঁজছি তার জন্য। তাকেই জিজ্ঞেস করুন, তার মন যেটা বলছে শরীর সেটা করার অনুমতি দিচ্ছে কি না। এখানে ব্যক্তিগত কোনো বিষয় নেই। তার প্রতি আমার শ্রদ্ধা আছে এবং চমৎকারভাবে বাংলাদেশকে সেবা দিয়েছে। কিন্তু এখন সময় নতুন, তরুণদের দিকে দৃষ্টি দেয়ার, শামসুন্নাহার জুনিয়র, প্রীতি, ঋতুপর্ণা, মনিকা আজ দুর্দান্ত ছিল।’
প্রথমার্ধ শেষের পর বিরতির সময় বাফুফের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, সাবিনার শেষের শুরু কি তবে হয়ে গেল? কিরণ অবশ্য বিষয়টি মানতে নারাজ ।
‘আমার মনে হয় তার শুরুর একাদশে না থাকার কারণ পারফরম্যান্স। প্রথম ম্যাচে তার পারফরম্যান্স ভালো ছিল না। তার শেষের শুরু কেন?তার যে জায়গায় ঘাটতি আছে, সেখানে উন্নতি করবে।’








