২০০৩ সালে মুলতান টেস্টে অবিশ্বাস্য পরাজয় বাংলাদেশকে আক্ষেপে পুড়িয়েছে বহুদিন। ২১ বছর পর পাকিস্তানের মাটিতে আক্ষেপ মেটাল টিম টাইগার্স। দেশটির বিপক্ষে ১০ উইকেটের ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে নাজমুল হোসেন শান্ত’র দল। তাদের বিপক্ষে টাইগারদের প্রথম টেস্ট জয় এটি। গৌরবময় ইতিহাস লেখার ম্যাচে বাংলাদেশের একাধিক অর্জন-রেকর্ড হয়েছে রাওয়ালপিন্ডিতে।
আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ পাকিস্তানের বিপক্ষে চলতি সিরিজটি। দুই ম্যাচের প্রথমটিতে টসে জিতে স্বাগতিকদের ব্যাটে পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ। নেমে ৬ উইকেটে ৪৪৮ রানে প্রথম ইনিংস ছাড়ে পাকিস্তান। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৫৬৫ রান তুলে ১১৭ রানের লিড নেয়। দ্বিতীয় ইনিংসে নেমে সাকিব আল হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজের দাপুটে বোলিংয়ে ১৪৬ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩০ রান। জাকির হাসান ও সাদমান ইসলামের সাবলীল ব্যাটিংয়ে ৬.৩ ওভারে ইতিহাস রচনা করে ফেরে টিম টাইগার্স।
১০ উইকেটে জিতে উইকেটের হিসেবে টেস্টে টাইগারদের সবচেয়ে বড় জয়ের রেকর্ড এসেছে। ২০২২ সালে মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৮ উইকেটে জিতেছিল বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টে পাকিস্তানের সর্বনিম্ন রানের রেকর্ড এটি (১৪৬)। ২০০৩ সালে মুলতান টেস্টে ১৭৫ রানে তাদের থামিয়েছিল টিম টাইগার্স। যে ম্যাচ ১ উইকেট হেরে যাওয়ার আক্ষেপে পুড়েছিল বাংলাদেশ।
পাকিস্তানের বিপক্ষে আগে ১৩টি টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ। কেবল এক ম্যাচে ড্র করেছিল খুলনায়, ২০১৫ সালে। এটি তাদের বিপক্ষে প্রথম জয়। টেস্টে বাংলাদেশের ২০তম জয় এটি। এপর্যন্ত ১৪২টি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। ড্র করেছে ১৮টিতে।
টেস্ট খেলুড়ে ১১টি দেশের মুখোমুখি হয়ে পাকিস্তানকে হারিয়ে নবম দেশের সঙ্গে জয়ের স্বাদ নিলো টিম টাইগার্স। এখনও জেতার স্বাদ নেয়া হয়নি ভারত ও সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে। সবচেয়ে বেশি ৮ ম্যাচে জয় এসেছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪টি এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি টেস্টে জয় আছে। আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে ১টি করে টেস্ট জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।
বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের সপ্তম টেস্ট জয় এটি। সবশেষ ২০২২ সালে মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে নিউজিল্যান্ডকে ৮ উইকেটে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুবার, কিংসটনে ও গ্রানাডায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুবার এবং ২০১৭ সালে কলম্বোতে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ।
রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের শেষদিনে দারুণ এক কীর্তি সঙ্গী করেছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাঁহাতি স্পিনারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী হয়েছেন। আবদুল্লাহ শফিককে ফিরিয়ে আগের রেকর্ডধারী ড্যানিয়েল ভেট্টরিকে টপকে যান।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাঁহাতি স্পিনারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী ছিলেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ভেট্টরি। টেস্ট, ওয়ানডে এবং আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি মিলিয়ে তার ৪৪২ ম্যাচে সর্বোচ্চ ৭০৫ উইকেট শিকারের রেকর্ড ছিল।
রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে নামার আগে সাকিবের আন্তর্জাতিক উইকেট সংখ্যা ছিল ৭০৩। পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসে নিয়েছেন ১ উইকেট, পরের ইনিংসে নিয়েছেন ৩ উইকেট। ওপেনার আবদুল্লাহ শফিকের পরে সৌদ শাকিল ও নাসিম শাহকে আউট করে সংখ্যা বাড়িয়ে নেন। এখন তার মোট আন্তর্জাতিক উইকেট ৭০৭টি। সিরিজের প্রথম ম্যাচে নামার আগে সাকিবের টেস্টে উইকেট ছিল ২৩৭টি এবং দুই ইনিংসের ৪ উইকেট যোগ করে হয়েছে ২৪১টি।
তৃতীয় দিনে সেঞ্চুরি করেছিলেন মুশফিকুর রহিম। ১৯১ রান করে চতুর্থ ডাবল সেঞ্চুরি থেকে ৯ রান দূরে ফিরে যান। পাকিস্তানের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি এটি মুশফিকের। একাদশতম সেঞ্চুরি করে টপকে যান তামিম ইকবালকে (১০)। তার সামনে আছেন কেবল মুমিনুল হক (১২ সেঞ্চুরি)।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ করেছিল ৫৬৫ রান। পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড এটি। ২০১৫ সালে খুলনায় ৯ উইকেটে ৫৫৭ রান করেছিল বাংলাদেশ। টেস্টে সর্বোচ্চ রানের তালিকায় টাইগারদের তৃতীয় সর্বোচ্চ এটি। ২০১৩ সালে গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে করা ৬৩৮ রান শীর্ষে। ২০১৭ সালে ওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৮ উইকেটে ৫৯৫ রানের ইনিংস দুইয়ে।







