মিরপুর টেস্টের চতুর্থ দিনের শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। দুই উদ্বোধনীকে হারিয়ে চাপে পড়েছিল। নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হকের শতাধিক রানের জুটিতে ম্যাচে ফেরে স্বাগতিক দল। পরে বৃষ্টিতে ভেস্তে যায় পুরো একটি সেশন। তৃতীয় সেশনে খেলা গড়ালেও আলোকস্বল্পতায় সময়ের আগেই শেষ হয়েছে দিনের লড়াই। দিন শেষে ১৭৯ রানের লিড নিয়ে চালকের আসনে আছে টিম টাইগার্স, হাতে ৭ উইকেট।
শুক্রবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে হেরে আগে ব্যাটে নামে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রানে অলআউট হয় শান্তর দল। জবাবে ৩৮৬ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। ২৭ রানে লিড পেয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে নেমে চতুর্থ দিন শেষে ৫০.৩ ওভারে ৩ উইকেটে ১৫২ রান বাংলাদেশের। সবমিলিয়ে লিড ১৭৯ রান। পঞ্চম দিনে শান্ত ৫৮ এবং মুশফিক ১৬ রানে শুরু করবেন।
২৭ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তৃতীয় দিনের শেষদিকে ব্যাটে নেমে ১.৫ ওভারে ৭ রানে খেলা শেষ করেছিলেন জয় ও সাদমান। সোমবার ৩২ রানে এগিয়ে দিনের খেলা শুরু করেন তারা। আগেরদিন বৃষ্টির জন্য ১০০ মিনিট খেলা নষ্ট হওয়ায় ওভার পুষিয়ে নিতে ১৫ মিনিট আগে সকাল পৌনে ১০টায় খেলা মাঠে গড়ায়।
দিনের শুরুতে মোহাম্মদ আব্বাসের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরেন মাহমুদুল হাসান জয়। গুডলেন্থ বলে ফ্লিক করতে গিয়ে লাইন মিস করেন। বল প্যাডে হাঁটু বরাবর আঘাত হানে। ৫ রান করে ফেরেন। দলীয় ২৩ রানে আরেক ওপেনার সাদমান ইসলামের উইকেট তুলে নেন হাসান আলী। নিজের প্রথম ওভারে তারকা পেসার বাড়তি বাউন্সে অফ স্টাম্পের বাইরে ফুল লেন্থে বল ছোড়েন। সাদমান রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে সামনের পায়ে এগোলে বল আচমকা লাফিয়ে ওঠে। ব্যাটের উপরের কানা ছুঁয়ে গালিতে গেলে সহজ ক্যাচ নেন সৌদ শাকিল। ১০ রান করে যান সাদমান।
দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে টাইগার দল। মুমিনুল-শান্ত জুটি ৭০ রান যোগ করে অবিচ্ছিন্ন থেকে প্রথম সেশন শেষ করেন। বৃষ্টির কারণে ভেসে যায় দ্বিতীয় সেশন। লম্বাসময় খেলা বন্ধ থাকার পর বিকেল পৌনে ৪টায় বল মাঠে গড়ায়। বৃষ্টির কারণে সময় দেয়া হয় ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত খেলার।
বৃষ্টির পর বোলিং আক্রমণে এসে অল্পের জন্য উইকেট পাননি নোমান আলী। অফ স্টাম্পে টার্ন করা বল ভেতরে ঢুকেছিল। মুমিনুল ব্যাকফুটে গিয়ে ব্যাট ঘোরানোর চেষ্টা করেন। শর্ট লেগে ফজলের জন্য ক্যাচ নেয়া বেশ কঠিন ছিল। বল তালুবন্দি করতে না পারায় ৪৩ রানে জীবন পান মুমিনুল।
সুযোগ কাজে লাগিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারে ২৭তম ফিফটি তোলার পাশাপাশি তৃতীয় বাংলাদেশি হিসেবে পাঁচ হাজারি ক্লাবে নাম লেখান মুমিনুল। সবার আগে বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে এ কীর্তি গড়া মুশফিক চলতি টেস্টে প্রথম ইনিংস পর্যন্ত ৬ হাজার ৫৮১ রান করেছেন। পরে আছেন তামিম ইকবাল। বিসিবি সভাপতি ও জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক টেস্টে করেছেন ৫ হাজার ১৩৪ রান। খানিকপর টেস্টে ষষ্ঠ ফিফটি আদায় করে নেন অধিনায়ক শান্ত।
তৃতীয় উইকেটে মুমিনুল-শান্ত গড়েন ১০৫ রানের জুটি। শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে জুটি ভাঙে। মুমিনুলের ব্যাটের বাইরের দিকের নিচের কানায় লেগে বল রিজওয়ানের গ্লাভসে জমা পড়ে। ৪ চারে ১২০ বলে ৫৬ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। এরপর শান্ত-মুশফিকের ২৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দিনের খেলা শেষ হয়।
দ্বিতীয় ইনিংসে এপর্যন্ত একটি করে উইকেট নিয়েছেন শাহিন শাহ আফিদ্রি, মোহাম্মদ আব্বাস ও হাসান আলি।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ১৩০ বলে ১০১ রান করেন অধিনায়ক। ২০০ বলে ৯১ রান করেন মুমিনুল হক। ১৭৯ বলে ৭১ রান করেন মুশফিকুর রহিম।
পাকিস্তানের মোহাম্মদ আব্বাস ৫ উইকেট নেন। শাহিন আফ্রিদি নেন ৩ উইকেট। হাসান আলি ও নোমান আলি একটি করে উইকেট নেন।
জবাবে পাকিস্তানের হয়ে আজান আওয়াইস ১৬৫ বলে ১০৩ রান করেন। আব্দুল্লাহ ফজল ৬০, মোহাম্মদ রিজওয়ান ৫৯, সালমান আঘা ৫৮ এবং ইমাম উল হক ৪৫ রান করেন।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের মেহেদী হাসান মিরাজ ৫টি, তাসকিন ও তাইজুল ২টি করে উইকেট নিয়েছেন। নাহিদ রানা নেন ১টি উইকেট।







