রাওয়ালপিন্ডিতে দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয় দিন সকালে বিপর্যয়ে পড়া বাংলাদেশ লিটন দাসের সেঞ্চুরিতে ২৬২ রানে যেয়ে অলআউট হয়েছে। ডানহাতি উইকেটকিপার-ব্যাটারের দৃঢ়তার পর প্রথম ইনিংসে নাজমুল হোসেন শান্তরা পিছিয়ে আছে ১২ রানে। সম্ভাবনা জাগিয়ে সেঞ্চুরি ছুঁতে পারেননি স্পিন-অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ।
২৭ মাস পর সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন লিটন। ২৯ বর্ষী তারকা সেঞ্চুরি করেন ১১ চার এবং ২ ছক্কা মেরে, খেলেন ১৭১ বল। ক্যারিয়ারের ১৮তম ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে পরিণত করেন। বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে পাকিস্তানের বিপক্ষে একাধিক সেঞ্চুরি ছুঁলেন। পাকিস্তানের মাটিতে এটি প্রথম হলেও দেশটির বিপক্ষে তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। প্রথমটি ছিল ২০২১ সালে, চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে।
লিটনের সেঞ্চুরির পথে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন ডানহাতি পেসার হাসান মাহমুদ। দলীয় ৭৩তম ওভার চলাকালে লিটন-হাসানের নবম উইকেট জুটিতে পঞ্চাশ রান পূর্ণ হয়। শেষপর্যন্ত লিটন ২২৮ বলে ১৩৮ রানে আউট হন, তার ইনিংসে ১৩ চার এবং ৪ ছক্কার মার রয়েছে। ৬৯ রানে ভাঙে সেই জুটি। হাসান অপরাজিত থাকেন ৫১ বলে ১৩ রানে।
এর আগে আড়াইশর ভিত গড়া লিটন-মিরাজের সপ্তম উইকেট জুটি ভাঙে ১৬৫ রানে যেয়ে। এটিতে রেকর্ড হয়েছে, টেস্টে পঞ্চাশের আগে ৬ উইকেট হারানোর পর এটিই সর্বোচ্চ রানের জুটি। আগের সর্বোচ্চ জুটি করেছিলেন পাকিস্তানের আব্দুর রাজ্জাক ও কামরান আকমল। ২০০৬ সালে করাচি টেস্টে, ভারতের বিপক্ষে ৩৯ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর ১১৫ রানের জুটি গড়েছিলেন।

ডানহাতি অলরাউন্ডার মিরাজ ১২৪ বলে ৭৮ রানে খুররাম শেহজাদের হাতে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে যান। তার ইনিংসে ১২ চার এবং এক ছক্কার মার রয়েছে। আউট হওয়ার আগে দ্বিতীয়বার একই টেস্টে ৫ উইকেট এবং ফিফটির কীর্তি গড়েছেন ২৬ বর্ষী তারকা।
সকালে ২৬ রানের মধ্যে ৬ উইকেট পড়ার পর, আটে ব্যাটিংয়ে নেমে ফিফটির ইনিংস খেলা বিশ্বের চতুর্থ ব্যাটার মিরাজ। বাকি তিন ইনিংসে সর্বোচ্চ রান ছিল ৭০, সেটা ছাড়িয়ে মিরাজের ইনিংসটি সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েছে। টানা তৃতীয় ইনিংসে আট নম্বরে নেমে ফিফটির দেখা পেলেন তিনি।

পঞ্চাশের আগে ৬ উইকেট পড়ার পর সপ্তম উইকেট জুটিতে পঞ্চাশের বেশি রান পাওয়ার ইনিংস বাংলাদেশের জন্য এটি দ্বিতীয়বার। ২০০৮ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে ৪৪ রানে ষষ্ঠ উইকেট পড়ার পর ৭৮ রান যোগ করেছিলেন সাকিব আল হাসান ও মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা।
রোববার রাওয়ালপিন্ডিতে দ্বিতীয় টেস্টে তৃতীয় দিনের শুরুতে ব্যাটিংয়ে ধস নামে বাংলাদেশের। সকালে বোর্ডে ১৬ রান যোগ করতেই ৬ উইকেট হারিয়ে বসে টিম টাইগার্স। আগেরদিন বিনা উইকেটে বাংলাদেশ করেছিল ১০ রান।
একে একে সাজঘরে ফেরেন জাকির হাসান (১), সাদমান ইসলাম (১০), নাজমুল হোসেন শান্ত (৪), মুমিনুল হক (১), মুশফিকুর রহিম (৩) ও সাকিব আল হাসান (২) রান করে।
বাংলাদেশের সর্বনিম্ন রানে অলআউটের রেকর্ড ঘাঁটাঘাঁটি শুরুর পর লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজের প্রতিরোধ গড়েন। সেশনের বাকিটুকু আগলে রেখে অবিচ্ছিন্ন ৪৯ রানের জুটি গড়ে লাঞ্চ বিরতিতে যান তারা। ফলো-অনে পড়ার শঙ্কাও অনেকটা কেটে যায়। বিরতি কাটিয়ে ফিরে একই গতিতে ছোটাচ্ছিলেন রানচাকা। যে জুটি দেড়শ পেরিয়ে থামে।

খুররম শেহজাদ একাই নিয়েছেন ৬ উইকেট। ২টি উইকেট নিয়েছেন মীর হামজা। বাকি দুই উইকেট সালমানের।
বৃষ্টির কারণে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের প্রথমদিন টসই হয়নি। দ্বিতীয় দিনে টসে হেরে পাকিস্তান ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ইনিংসে আড়াইশ পেরোয়, অলআউট হয় ২৭৪ রানে। সিরিজে ১-০তে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ।








