আগের ম্যাচে শূন্য রানে আউট হয়ে দলে সুযোগ পাওয়াকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছিলেন সৌম্য সরকার। পরের ম্যাচেই দেড়শ পেরোনো ইনিংস খেলে করলেন রাজকীয় প্রত্যাবর্তন। বলে দিলেন ফুরিয়ে যাননি! নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১৫১ বলে ২২ চার ও ২ ছয়ে ১৬৯ রানের নান্দনিক ইনিংস উপহার দিয়েছেন সৌম্য। বাংলাদেশ অবশ্য ম্যাচটা জিততে পারেনি। হারা দল থেকে ম্যাচসেরা হয়ে বাঁহাতি ওপেনার বললেন, জিতলে সেঞ্চুরিটা বিশেষ হতো।
বোর্ডে বড় পুঁজিই জমিয়েছিল বাংলাদেশ। বোলারদের নির্বিষ থাকা ও ফিল্ডিং দুর্বলতার দিনে সৌম্যর প্রত্যাবর্তন জয়ে রাঙানো যায়নি। ৭ উইকেটের হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে সফরকারী নাজমুল হোসেন শান্তর দল। চেনারূপে ফেরা সৌম্যর হাতে ওঠে ম্যাচসেরার পুরস্কার। তখন মাইক্রোফোনের সামনে তার কণ্ঠে ঝরেছে হারের আক্ষেপ।
‘সেঞ্চুরি পাওয়ায় আমি খুশি। তবে দল হারায় দুঃখ লাগছে। আমরা যদি জিততাম, সেঞ্চুরিটা আরও স্পেশাল হতো। পাওয়ার প্লেতে তিন উইকেট না হারালে হয়তো ম্যাচের ফলে পার্থক্য আসতে পারতো।’
সৌম্য আগের সেঞ্চুরিটি করেছিলেন ২০১৮ সালে, চট্টগ্রামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। পরে জাতীয় দলে আসা-যাওয়ার মধ্যে ছিলেন। বড় ইনিংস না পাওয়ায় তাকে ঘিরে প্রত্যাশাও কমে আসছিল। ঘরোয়া লিগেও রান পাচ্ছিলেন না। চণ্ডিকা হাথুরুসিংহে দ্বিতীয় মেয়াদে কোচ হয়ে ফেরার পর ফের ডাক পান দলে। সুযোগ পেয়েই ঘুরে দাঁড়ালেন।
নিজের রানে ফেরা নিয়ে সৌম্য বললেন, ‘অনেকদিন পর দলে এসেছি। এসব নিয়ে খুব বেশি ভাবছি না। শুধু বল দেখে নিজের খেলাটাই আমি খেলার চেষ্টা করেছি।’
১৬৯ রানের মারকাটারি ইনিংস খেলার পথে মিড উইকেটের উপর দিয়ে খেলা পুল শটটাকেই দিনে নিজের সেরা শট বলছেন সৌম্য।
প্রথম ১০ ওভারে পাওয়ার প্লেতে টাইগারদের স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ৪৪। মুশফিকুর রহিম ও মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে যথাক্রমে ৯১ ও ৬১ রানের জুটি গড়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন সৌম্য। জুটিগুলো আরও বড় হওয়া উচিৎ ছিল বলেই মনে করছেন পাঁচ বছর পর সেঞ্চুরির দেখা পাওয়া ওপেনার।
‘মাঝখানে আমরা দুটি ভালো জুটি পেয়েছিলাম। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আমরা উইকেট হারিয়েছি। যদি এমনটা না হতো, তাহলে আমরা ভালো সংগ্রহ পেতাম। আমরা নেটে কঠোর অনুশীলন করছি।’
নেলসনে কিউই বোলিং আক্রমণ চুরমার করে খেলা বিধ্বংসী ইনিংসটি দিয়ে দারুণ এক রেকর্ড গড়েছেন সৌম্য। কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারকে ছাড়িয়ে তিনি এখন এশিয়ান ব্যাটার হিসেবে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ইনিংসের মালিক। ২০০৯ সালের মার্চে ক্রাইস্টচার্চে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ১৬৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন শচীন। সেই রেকর্ড ১৪ বছর পর ভেঙে দিলেন সৌম্য।
ওয়ানডেতে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংসটিও এখন সৌম্যর। জিম্বাবুয়েতে ২০০৯ সালে ১৫৪ রানের ইনিংস ছিল তামিম ইকবালের। সেটি টপকে গেছেন ৩০ বর্ষী সৌম্য।








