এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
মেয়েদের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের টানা পাঁচ ম্যাচে জিতে সুবিধাজনক অবস্থায় ছিল বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে সমীকরণ ছিল ড্র অথবা জয় পেলেই শিরোপা উঠবে স্বাগতিকদের হাতে। এ ম্যাচে নেপালকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে আসরের অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ।
নেপালকে হারিয়ে বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টে হ্যাটট্রিক শিরোপা জিতল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। শেষ ম্যাচে ৪ গোল করেছেন বাংলাদেশের ফরোয়ার্ড মোসাম্মৎ সাগরিকা। ৭, ৫১ এবং ৫৮ মিনিটে গোল করে হ্যাটট্রিক পূরণের পর ৭৭ মিনিটে চতুর্থ গোল করেন। তিন ম্যাচে সাগরিকা গোল করেছেন ৮টি।
২০২৩ সালে সাফের অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর ২০২৪ সালে হওয়া অনূর্ধ্ব-১৯ আসরে যৌথভাবে ভারতের সাথে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। এবার অনূর্ধ্ব-২০ আসরের শিরোপা জিতে হ্যাটট্রিক পূরণ করল সাগরিকা-উমেলা-স্বপ্নারা। বয়সভিত্তিক আসরে সর্বোচ্চ পাঁচটি শিরোপার মালিক এখন বাংলাদেশ।
ম্যাচের শুরুতেই সাগরিকার ঝলক, দ্বিতীয় মিনিটে তার বাঁ পায়ের শট ঠেকিয়ে দেন নেপালের গোলরক্ষক সুজিতা তামাং। প্রথম কর্নার আদায় করে নেয় বাংলাদেশ। ওই সময় মুনকি আক্তারের শট নেপালের গোলবারের বাইরে দিয়ে চলে যায়। প্রথম চার মিনিটে তিন কর্নার আদায় করে নেয় লাল-সবুজের দল। কর্নার থেকে নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে দেয় নেপালের ডিফেন্ডার।
আক্রমণের সুফল পেতে খুব একটা সময় লাগেনি বাংলাদেশের, স্বপ্না রানীর অ্যাসিস্টে সপ্তম মিনিটে ম্যাচের প্রথম গোল করেন সাগরিকা। ১-০ গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। লেফট উইংয়ে শান্তি মার্ডি এবং রাইট দুই উইং দিয়ে উমেলা মারমা দুর্দান্ত খেলেছেন। মিডফিল্ডে স্বপ্না রানীর দারুণ পাসিংয়ে নেপালকে বারবার নাকানিচুবানি দিয়েছেন বাংলাদেশের ফরোয়ার্ড সাগরিকা। পরে আর কোনো গোল না হলে ১-০ গোলে এগিয়ে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

বিরতি থেকে ফিরেই আবারও সাগরিকার ঝলক। ৫১ মিনিটে রাইট উইঙ্গার উমেলার পাসে নেপালের গোলকিপারকে ফাঁকি দিতে ভুল করেননি সাগরিকা। ২-০ গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। ৫৮ মিনিটে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন সাগরিকা। জয়নব বিবি রিতার অ্যাসিস্টে গোল করেন তিনি ।
৭১ মিনিটে চতুর্থবার জালের দেখা পেয়েছিলেন সাগরিকা। তবে রাইট উইঙ্গার সিনহা জাহান শিখার অ্যাসিস্টটি অফসাইড হওয়ায় গোলবঞ্চিত হয় বাংলাদেশ। ৭৪ মিনিটে মুনকি আক্তারেরে অ্যাসিস্টে আবারও সাগরিকা সুযোগ পায়। তবে গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় বেঁচে যায় নেপাল।

৭৭ মিনিটে আবারও মুনকি আক্তারের পাস, এবার আর ভুল করেনটি সাগরিকা। ম্যাচের চতুর্থ ও তার নিজের চতুর্থ গোল করেন তিনি। ৮২ মিনিটে নেপালের নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে দেন মিলি আক্তার। দুই দলের খেলোয়াড়ের সংঘর্ষে আঘাত পান নবীরণ খাতুন। ৮৭ মিনিটে সাগরিকাকে তুলে নেন কোচ পিটার বাটলার।
শেষ দিকে আরও কিছু আক্রমণ করে বাংলাদেশ। তবে কোনো গোলের দেখা পায়নি আফঈদা খন্দকারের দল। পরে ৪-০ গোলের বড় জয় নিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।








