এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
নতুন বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারত-শ্রীলঙ্কায় গড়াবে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ। বৈশ্বিক আসরের আগে বাংলাদেশ সবশেষ সিরিজে মুখোমুখি হয়েছে আয়ারল্যান্ডের। তিন ম্যাচের টি-টুয়েন্টি লড়াইয়ে প্রথমটি আইরিশরা জিতে নেয়। পরের ম্যাচে টিম টাইগার্স সমতায় ফেরে। শেষ ম্যাচে বল হাতে দারুণ করে সফরকারীদের অল্পতে আটকে দেয়। শেষে ৮ উইকেটের সহজ জয়ে ম্যাচের সাথে সিরিজও জিতে নিয়েছে লিটন দাসের দল। ২-১ ব্যবধানে জয়ের সুখস্মৃতি নিয়ে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি সারল লাল-সবুজরা।
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টসে জিতে বাংলাদেশকে বোলিংয়ে পাঠায় আয়ারল্যান্ড। নির্ধারিত ১৯.৫ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ১১৭ রানে আটকে যায় সফরকারীরা। জবাবে ২ উইকেট হারিয়ে ১৩.৪ ওভারে জয়ের বন্দরে পৌঁছায় টিম টাইগার্স।
মঙ্গলবার রানতাড়ায় নেমে ৩৮এ প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ২ চার ও এক ছক্কায় ১৪ বলে ১৯ রানে ফিরে যান ওপেনিংয়ে আসা সাইফ হাসান। আলো ছড়াতে পারেননি লিটন দাস। দলীয় ৪৬ রানে অধিনায়কের উইকেট যায়, ৬ বলে ৭ রান করেন তিনি।
৪৬ রানে ২ উইকেট হারানোর পর তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমনের অবিচ্ছিন্ন ৫০ বলে ৭৩ রানের জুটিতে জয় নিশ্চিত হয়। ৪ চার ও ৩ ছক্কায় ৩৬ বলে ৫৫ রান করেন তানজিদ। টাইগার ওপেনারের ১১তম ফিফটি। ইমন করেন এক চার ও ৩ ছক্কায় ২৬ বলে ৩৩ রান।
আইরিশদের মধ্যে ক্রেইগ ইয়ং ও হ্যারি টেক্টর একটি করে উইকেট নেন।
আগে পাঁচ ক্যাচ নিয়ে রেকর্ডে নাম তুলেছেন তানজিদ তামিম। আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ক্যাচের রেকর্ড হয়েছে। তার আগে দুজন অবশ্য এই কীর্তি গড়েছেন। ২০২৩ সালে কাতারের বিপক্ষে ৫ ক্যাচ নিয়েছেন মালদ্বীপের ওয়েজ জানাকা মালিন্দা, গত সেপ্টেম্বরে আইল অব ম্যানের বিপক্ষে সমান ক্যাচ নিয়েছেন সুইডেনের সেদিক সাহাক। তবে আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশের ফিল্ডারদের মধ্যে তানজিদই প্রথম কীর্তিটি গড়লেন।
ব্যাটে প্রথমে ভালো শুরু করেন দুই আইরিশ ওপেনার। চতুর্থ ওভারে টিম টেক্টরকে বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান মোস্তাফিজ। দলীয় ৩৮এ ১০ বলে দুই চার ও এক ছক্কায় ১৭ রান করে যান টেক্টর। তিনে সফলতা পাননি হ্যারি টেক্টর। শরিফুল ইসলাম পাওয়া প্লের শেষ ওভারে তাকে বোল্ড করেন। ৬ বলে এক চারে ৫ রান করে যান তিনি।
চারে নামা লোরকান টাকারকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন শেখ মেহেদী। ১ রানে ফেরেন তিনি। এরপর কার্টিস ক্যাম্ফেরকে (৯) বোল্ড করেন রিশাদ। ওপেনার-অধিনায়ক পল স্টার্লিং আউট হন ২৭ বলে ৩৮ রানে। পাঁচ চার ও এক ছয়ে ফেরেন রিশাদের বলে, লংঅনে ক্যাচ তুলে সাইফের হাতে। সাতে নামা গ্যারেথ ডেলানিকেও (১০) ফেরান রিশাদ। ১৮তম ওভারে ২ উইকেট তুলে নেন মোস্তাফিজ।
মোস্তাফিজ ১১ রানে নেন ৩ উইকেট। ২১ রানে ৩ উইকেট রিশাদের। শরিফুল নিয়েছেন ২১ রানে ২ উইকেট। একটি করে উইকেট নিয়েছেন শেখ মেহেদী ও সাইফউদ্দিন। রিশাদের ৫৫ ম্যাচে ৭১ উইকেট হল, টি-টুয়েন্টিতে শেখ মেহেদীকে ছাড়িয়ে বাংলাদেশের চতুর্থ উইকেট শিকারী এখন তারকা লেগ স্পিনার।








