ড. মোশতাক রাজা চৌধুরী ডিবিএইচ ফাইন্যান্স পিএলসি এর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের ১৪৯ তম সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ড. মোশতাক রাজা চৌধুরী বিশ্বের বৃহত্তম বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ডিবিএইচ এর একজন ব্র্যাক মনোনীত পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া তিনি নিউইয়র্কের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইলম্যান স্কুল অফ পাবলিক হেলথের জনসংখ্যা এবং পারিবারিক স্বাস্থ্যের অধ্যাপক।
২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তিনি রকফেলার ফাউন্ডেশনের সিনিয়র উপদেষ্টা এবং ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ম্যাকআর্থার ফেলো হিসেবেও কর্মরত ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ভিজিটিং স্কলার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানার নটরডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অফ পাবলিক হেলথের প্রতিষ্ঠাতা ডিন ছিলেন।
ড. চৌধুরী লন্ডন স্কুল অফ হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন থেকে পিএইচডি, লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্স থেকে এমএসসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ (অনার্স) সম্পন্ন করেন।
ড. চৌধুরী জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত শিশু স্বাস্থ্য ও মাতৃস্বাস্থ্য বিষয়ক ‘জাতিসংঘ মিলেনিয়াম টাস্ক ফোর্সের’ সমন্বয়কারী ছিলেন। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্রিগহাম ইয়ং ইউনিভার্সিটির ম্যারিয়ট বিজনেস স্কুল থেকে ‘ইনোভেটর অফ দ্য ইয়ার ২০০৬’ পুরস্কারের সহ-প্রাপক এবং ২০১৭ সালে, তিনি শিকাগো-ভিত্তিক রোনাল্ড ম্যাকডোনাল্ড হাউস চ্যারিটি থেকে ‘মেডিকেল এক্সিলেন্স’ পুরস্কার পেয়েছেন। ড. চৌধুরী পিয়ার-রিভিউ করা আন্তর্জাতিক জার্নালে ১৫০ টিরও বেশি নিবন্ধ প্রকাশ করেছেন এবং ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড প্রদত্ত ‘বেস্ট ইমপ্যাক্টফুল বুক’ পুরস্কার অর্জন করেছেন। সম্প্রতি প্রথমা প্রকাশনী থেকে তার জীবনী ‘আমার ব্র্যাক জীবন’ প্রকাশিত হয়েছে।
ড. চৌধুরী শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের উপর সুশীল সমাজের দুটি নজরদারি সংস্থা ‘বাংলাদেশ এডুকেশন ওয়াচ’ এবং ‘বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচের’ একজন প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস), সোশ্যাল মার্কেটিং কোম্পানি, লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্স এবং ম্যানেজমেন্ট সায়েন্সেস ফর হেলথ (এমএসএইচ) সহ বিভিন্ন সংস্থা এবং উদ্যোগের বোর্ড এবং কমিটিতে যুক্ত রয়েছেন।
নিউইয়র্কে একটি গ্রন্থ আলোচনায় অধ্যাপক ড. আহমদ মোশতাক রাজা চৌধুরী বলেছেন, প্রতিকূলতার মধ্যেও অনেক ক্ষেত্রে শক্তিশালী প্রতিবেশীকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ নানান প্রতিকূলতা ও আর্থসামাজিক উন্নয়নের অনেক ক্ষেত্রে শাক্তিশালী প্রতিবেশীকেও ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। বিশ্বের মানুষ বাংলাদেশকে যে হানাহানির দেশ হিসাবে চিনে, সেটি প্রকৃত চিত্র নয়। মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে বিশেষ করে নারীদের, অর্থনৈতিক স্বয়ম্ভরতা বেড়েছে প্রান্তিক মানুষের, দারিদ্রের হার কমেছে। এরকম অসংখ্য উদারহরণ দেয়া যাবে। এটি সম্ভব হয়েছে দেশের জনগণ, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের যৌথ প্রচেষ্টায়। দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করেছে ব্র্যাকসহ বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠনগুলো (এনজিও)।
নিউইয়র্কের কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির পাবলিক হেলথ্ বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমদ মোশতাক রাজা চৌধুরী। তার লেখা একজন উন্নয়ন কর্মীর বেড়ে ওঠা ‘আমার ব্র্যাক-জীবন’ শীর্ষক গ্রন্থের আলোচনায় স্বাগত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্প্রতি নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের মুনলাইট রেস্টুরেন্টে লেখকের উপস্থিতিতে গ্রন্থের আলোচনা অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সুধীজন অধ্যাপক ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ।
প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার আয়োজন-ব্যাবস্থাপনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফার্মাসিস্ট লিয়াকত হোসেন। এতে সাংবাদিক, লেখক, শিক্ষক, চিকিৎসক, আইনজীবি, কমিউনিটির বিভিন্ন সংগঠনের মুখপত্র, সাংস্কৃতিজনসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার প্রতিনিধি অংশ নেন। নিউইয়র্ক ছাড়াও বিভিন্ন রাজ্য থেকে আগত অতিথিরা অংশ নেন আলোচনা পর্বে। সবাইকে স্বাগত জানান প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা’র সম্পাদক ইব্রাহিম চৌধুরী খোকন।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এনজিও ব্র্যাকের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান, পরিসংখ্যানবিদ-গবেষক ডা. রাজা বলেন, ব্র্যাক বাংলাদেশের স্বাধীনতার একটি ফসল। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে দেশ গঠনে তথা দারিদ্র দূরীকরণ, নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক মুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যখাতের অগ্রগতিতে তথা প্রান্তিক মানুষের জীবন মানউন্নয়নে কাজ শুরু করে ব্র্যাক। আজ ব্র্যাক বাংলাদেশসহ পৃথিবীর ১১টি দেশে কাজ করে। ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদের সান্নিধ্যে সুদীর্ঘ ৪২ বছর ব্র্যাকে কাজ করতে গিয়ে কাছ থেকে দেখেছি বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়া। সেটি যেমন আলোকপাত করা হয়েছে তেমনি দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা, অর্জন, গবেষণা, প্রাপ্তিসহ নানান দিক তুলে ধরার চেষ্টা করেছি বইয়ে।
তিনি বলেন, ২০১৪ সালে রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে বহির্বিশ্বের গণমাধ্যমে বাংলাদেশের নেতিবাচক প্রচার পায়। তখন আমরা এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার দেশগুলোর রাজধানীতে গিয়ে বাংলাদেশের সেই এগিয়ে যাওয়ার চিত্র তুলে ধরি। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিই অগ্রগতির বিষয়টি। যারাই সেই অগ্রগতির কথা শুনেছে বিস্মিত হয়েছে, পুলকিত হয়েছে। আলোচনা অনুষ্ঠানে বারবার উঠে আসে ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদের প্রসঙ্গ। শ্রদ্ধা-ভালোবাসা জ্ঞাপন করেন বক্তারা। একইসাথে আলোচনা ও মুক্ত প্রশ্নপর্বে সমালোচনা উঠে আসে এনিজওদের কর্মকাণ্ড নিয়ে। কেউ কেউ ক্ষোভের সাথে বলেন, এনজিওরা ডোনার এবং সরকারের বিরুদ্ধে উচ্চকিত হননা কখনো, দালালি করেন।
ডা. রাজা সেই প্রসঙ্গে বলেন, ব্র্যাকের উদ্ভাবন বাংলাদেশের গ্রামে গ্রামে ছড়িয়েছে। ব্র্যাক বাংলাদেশের মানুষকে জাগানোর কাজ করেছে। ডায়রিয়া প্রতিরোধে মুখে খাবার স্যালাইনের ব্যাবহার, জনস্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলোর সুফল পাচ্ছে বাংলাদেশ।








