রাত পোহালে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) নির্বাচন দিন। জয়ীদের নিয়ে গঠন হবে নতুন কমিটি। চার মেয়াদে সভাপতির দায়িত্বে থাকা কাজী সালাউদ্দিন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। ১৬ বছর পর দেশের ফুটবলে নতুন অভিভাবকের দেখা মিলতে চলেছে। কে হবেন নতুন সভাপতি, সেটি নিয়ে এবার আলোচনা যেন কমই! অনেকটা ডামাডোল ছাড়াই হতে চলেছে দেশের ফুটবল ফেডারেশনের নির্বাচন। শনিবার ২৬ অক্টোবর দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলবে ভোট গ্রহণ।
বর্তমান সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন নির্বাচন না করার ঘোষণা দেয়ার পরদিন তরফদার রুহুল আমিন সভাপতি পদে নির্বাচন করার কথা জানান। চমক দেখিয়ে পরে সিনিয়র সহ-সভাপতির মনোনয়ন কেনেন তিনি। এ পদে মনোনয়ন কেনেন ইমরুল হাসান ও মনির হোসেন। শেষপর্যন্ত নাম প্রত্যাহার করে নেন রুহুল আমিন ও মনির হোসেন। সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে তাই একজন প্রার্থী। ইমরুল হাসানের চেয়ারে বসাটা শুধুই সময়ের ব্যাপার।
এদিকে সভাপতি পদে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী। তাবিথ আউয়াল, যিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনীতিবিদ, ২০১২ ও ২০১৬ সালে বাফুফের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০২০ সালে একই পদে হেরে যান।
সহ-সভাপতি প্রার্থী ৬ জন। ৪ জন নির্বাচিত হবেন। এ পদ নিয়েও খুব একটা উত্তাপ নেই। এবার বড় পদগুলোয় তুমুল লড়াইয়ের সম্ভাবনা নেই বলেই যেন যত আকর্ষণ সদস্য পদ ঘিরে। নির্বাহী কমিটিতে সভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি, সহ-সভাপতি ও সদস্য মিলিয়ে মোট পদ ২১টি। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ৪৬ জন প্রার্থী। এর মধ্যে সভাপতি পদে ২ জন, সিনিয়র সহ-সভাপতি ১ জন, সহ-সভাপতি ৬ জন ও সদস্য পদে মোট ৩৭ জন নির্বাচন করছেন।
নির্বাচন সামনে রেখে গঠন করা হয়েছে তিন সদস্যের কমিশন। পঞ্চমবারের মতো প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পেয়েছেন মেজবাহ উদ্দিন। ২০০৮ সাল থেকে টানা চার মেয়াদে (২০১২, ২০১৬ ও ২০২০) বাফুফে নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
তিন সদস্য নিয়ে গঠিত নির্বাচন কমিশনে মেজবাহ উদ্দিনের সঙ্গে দুজন নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আছেন এহসানুর রহমান ও সুরাইয়া আক্তার জাহান। তিন সদস্যের নির্বাচনি আপিল কমিশনও গঠন করা হয়েছে। কমিটির চেয়ারম্যান বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. মো. জাকারিয়া। সদস্য হিসেবে রয়েছেন হারুনুর রশীদ ও মিহির সারওয়ার মোর্শেদ।
নির্বাচন উপলক্ষে ১৩৩ জন ভোটার ডেলিগেট এবং ৯ জনের নন-ভোটার ডেলিগেটের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এর আগে ১৪ ও ১৫ অক্টোবর প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেয়ার তারিখ নির্ধারণ করা হয়। যাচাই-বাছাই হয় ১৬ অক্টোবর। মনোনয়নপত্র নিয়ে প্রার্থীদের আপত্তি থাকলে অভিযোগ করার তারিখ ছিল ১৭ অক্টোবর এবং আপত্তির শুনানি ছিল ১৮ অক্টোবর। মনোনয়ন প্রত্যাহারের জন্য নির্ধারিত ছিল ১৯ ও ২০ অক্টোবর দুপুর পর্যন্ত। এরপর বাফুফে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে ২০ অক্টোবর বিকেলে।








