বাংলা ভাষা একদিন বিশ্ব সাহিত্যে আলো ছড়াবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ ২৬ ফেব্রুয়ারি বুধবার সকাল ১১টার পর রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘একুশে পদক ২০২৬’ পদক প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, শিক্ষা, সংস্কৃতি, শিল্পকলার বিভিন্ন শাখার অবদান রেখে নিজ গুণে যারা সমাদৃত হয়েছেন তাদের অভিনন্দন জানাই।
তিনি আরও বলেন, রাজনীতিবিদ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকলেও একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, জ্ঞানী-গুণীজন দিক নির্দেশনার ভূমিকা পালন করে থাকেন। একটি রাষ্ট্র ও সমাজে কৃতিমানদের সংখ্যা যত বাড়বে সমৃদ্ধি ও নৈতিকতার মানদন্ডে সেই সমাজ তত বেশি আলোকিত হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র তার নিজের প্রয়োজন জ্ঞানী-গুণী মানুষদের সম্মানিত করে। এই উপলব্ধি থেকেই স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথমবারের মত একুশে পদকের প্রবর্তন করেন।
বিভিন্ন ক্ষেত্রে গৌরবোজ্জ্বল ও উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর ৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে ‘একুশে পদক’ দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি মন্ত্রিসভার সদস্য, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
সংস্কৃতি অঙ্গনে অভিনয় বিভাগে সম্মাননা পান ফরিদা আক্তার ববিতা। চারুকলায় অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সাত্তার এবং স্থাপত্যে প্রখ্যাত স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম পদক গ্রহণ করেন। সংগীতে (মরণোত্তর) সম্মানিত হন কিংবদন্তি শিল্পী আইয়ুব বাচ্চু।
নৃত্যে অর্থী আহমেদ এবং পালাগানে ইসলাম উদ্দিন পালাকার স্বীকৃতি পান। সাংবাদিকতায় শফিক রেহমান, শিক্ষাক্ষেত্রে অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আলম মজুমদার এবং ভাস্কর্যে তেজস হালদার জস পদক লাভ করেন। এছাড়া সংগীতাঙ্গনে বিশেষ অবদানের জন্য জনপ্রিয় ব্যান্ড ওয়ারফেজকে ‘একুশে পদক ২০২৬’-এ ভূষিত করা হয়।
উল্লেখ্য, ভাষা আন্দোলনের চেতনা ধারণ করে ১৯৭৬ সাল থেকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ‘একুশে পদক’ প্রদান করা হচ্ছে। জাতীয় জীবনে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এটি বাংলাদেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা।







