যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ বলেছেন: যারা বঙ্গবন্ধুকে খুন করেছিল তারা কখনই চায়নি বাংলাদেশ সার্থকতা ও সফলতা অর্জন করুক। তারা সবসময়ই সচেষ্ট ছিল বাংলাদেশ যেন পাকিস্তানের মত একটা মৌলবাদী ও পশ্চাৎপদ রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
আরও বলেন: তাই আমরা দেখেছি সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান, যেটা আমাদের প্রোগ্রেসকে অপূরণীয় ক্ষতি করেছে। আমি আশা করি আমাদের এই প্রজন্ম এ ব্যাপারে সজাগ ও সচেতন থাকবেন। আপনাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আপনারা আগামীতে কেমন বাংলাদেশ দেখতে চান।’
সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট (আইবিএ)-এর উদ্যোগে আইবিএ’র অডিটোরিয়ামে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ আরও বলেন, ‘আমরা কি ওই ধরণের সমাজব্যবস্থায় ফিরে যেতে চাই, যেখানে ধারাবাহিকভাবে ইতিহাস বিকৃতি করার মহোৎসব পালিত হয়? প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে মিথ্যা ইতিহাস চাপিয়ে দেয়া হয়। যেখানে মুক্তচিন্তার পথ রুদ্ধ করা হয় এবং ভিন্নমতের স্বাধীনতা খর্ব করা হয়? যেখানে ৬৪টি জেলায়, প্রেসক্লাবে একযোগে সিরিজ বোমা মেরে গণমানুষ ও গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা হয়?। তিনি আরও বলেন-প্রগতিশীল সমাজব্যবস্থায় ধর্মান্ধতার কোনো সুযোগ নেই। ধর্মনিরপ্রেক্ষতা শুধু একটা হাল ফ্যাশন দুরস্ত, রাজনৈতিক বক্তব্য না। ধর্মনিরপ্রেক্ষতা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। যার যার বিশ্বাস তার তার। বিশ্বাস তো কখনো চাপিয়ে দেয়া যায় না।
তিনি উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘শুধুমাত্র চাকরির উপর নির্ভরশীল হলে চলবে না, নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে, আত্মনির্ভরশীল হতে হবে। সরকারের পাশাপাশি কিভাবে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নত করা যায়, নিজস্ব মেধা কাজে লাগিয়ে উদ্যোক্তা হওয়া যায় সে দিকে নজর দিতে হবে। ২০০৯ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে গত ১৩ বছরের উন্নয়নে দেশের চেহারা বদলে গেছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নের ফল্গু ধারায় থাকায় স্বাধীনতাবিরোধীদের সব ষড়যন্ত্র ভেস্তে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন-‘বাংলাদেশের একটা তথাকথিত বিরোধী দল আছে যারা চায় না আমরা এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে একটা ন্যায়পরায়ণ, মানবিক, বিজ্ঞান ও মেধাভিত্তিক, প্রগতিশীল, অসাম্প্রদায়িক সমাজব্যবস্থা কায়েম করি। এদের উদ্দেশ্য বাংলাদেশকে একটা পশ্চাৎপদ ও মৌলবাদী রাষ্ট্রে রুপান্তরিত করা।’
ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ এ. মোমেনের সভাপতিত্বে ও ইনস্টিটিউটের এমবিএ প্রোগ্রামের কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক ড. রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান, ইনস্টিটিউটের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।







