কুয়েতের সঙ্গে সমানতালে লড়াই করে স্কোরলাইন গোলশূন্য নিয়ে নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ করেছে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম সেমিফাইনাল ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়িয়েছে। গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকোর একের পর এক সেভ জামালদের জাল অক্ষত রাখে।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৫১ ধাপ এগিয়ে থাকা কুয়েতের সঙ্গে জামাল ভূঁইয়ারা দারুণ লড়াই করেছেন। শনিবার বিকেলে বেঙ্গালুরুর শ্রী কান্তিরাভা স্টেডিয়ামে ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটে গোলের সুবর্ণ সুযোগ পায় লাল-সবুজের দল। বিশ্বনাথ ঘোষের থ্রো ইন থেকে বল পান রাকিব। ডানপ্রান্ত থেকে দেন পাস। কুয়েত ডিফেন্ডার বল মিস করায় বক্সের ভেতর থাকা মোরসালিন বল নিয়ে ডান পায়ে শট করেন। বল গোলরক্ষক মারজুকের ডান হাঁটুতে লেগে ফিরে আসে।
সপ্তম মিনিটে ইসা ফয়সাল গোললাইন বরাবর বল ক্লিয়ার করে বাংলাদেশকে বিপদ থেকে রক্ষা করেন।
ম্যাচের ২৫ মিনিটে বাংলাদেশ গোলরক্ষক জিকো বল ধরার সময় তাকে অহেতুক আঘাত করেন কুয়েত অধিনায়ক খালেদ হাজিয়া। এ নিয়ে খানিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। মিনিট তিনেক পর রাকিবের দূরপাল্লার শট প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক গ্লাভসবন্দি করেন।
২৯ মিনিটে আল রাশিদির শট ফিস্ট করে জাল অক্ষত রাখেন জিকো। এরপর ইসা হেডে বল বিপদমুক্ত করেন। দুই মিনিট পর জামালের থেকে বল নিয়ে বাঁ-প্রান্ত দিয়ে এগিয়ে যান মোরসালিন। তার পাসে আসা বলে বক্সে থাকা রাকিবের শট গোলরক্ষক লুফে নেন।
যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে রাকিবের শট কুয়েত গোলরক্ষকের ধরতে সমস্যা হয়নি।
শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে বিরতিতে যাওয়ার আগে লড়াই করে হাভিয়ের ক্যাবরেরার দল। দীর্ঘ ১৮ বছরের ফাইনাল খরা ঘোচানোর আশার পালে জোগায় হাওয়া।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়ায় কুয়েত। ৫১ মিনিটে সালমানের হেড হৃদয় কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন।
পরে ৫৪ মিনিটে রাকিবের দূরপাল্লার শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যায়। ৬১ মিনিটে মোরসালিনের বাড়িয়ে দেয়া বল নিয়ে বক্সে জিরো ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে শট নেন রাকিব। বল পোস্টে লেগে ফিরে যাওয়ায় বাংলাদেশ গোল বঞ্চিত হয়।
৬৩ মিনিটে বক্সের কাছে থেকে কুয়েতের হাসান আলআনেজির নেয়া ফ্রি-কিক প্রতিহত করেন জিকো। খানিক পর আল রাশিদির জোরাল শটও তিনি চমৎকার সেভ করেন।
পাল্টা আক্রমণে ৬৬ মিনিটে ডানপ্রান্ত থেকে মোরসালিন বল নিয়ে ছুটে যান। বক্সের ভেতর পাস দিলে জামাল বুক দিয়ে বল আদায় করতে পারেননি।
বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল চোট পেয়ে ৬৮ মিনিটে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়ায় বদলি হিসেবে নামেন ফয়সাল আহমেদ ফাহিম।
৭০ মিনিটে আবদুল্লার শট ঠেকিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে রাখেন জিকো। ৭২ মিনিটে হৃদয় মাঝমাঠ দিয়ে অনেকটা এগিয়ে পাস দেন। রাকিব ঠিকঠাক বল রিসিভ করতে পারেননি। এসময় আপত্তিকর মন্তব্য করায় ডাগ আউটে থাকা বাংলাদেশের ফিজিও ডেভিড মাগানকে লাল কার্ড দেখান রেফারি।
৭৩ মিনিটে জিকো এক হাতে দারুণ সেভ করেন। পাঁচ মিনিট পর এগিয়ে এসে বল লুফে নেন। আল খালদিকে তারেক আটকে দেন। ৭৯ মিনিটে কর্নার কিক জিকো আঙুল দিয়ে ঠেকান।
৮৬ মিনিটে বাংলাদেশের সহকারী কোচ হাসান আল মামুন হলুদ কার্ড দেখেন। পরের মিনিটে মোরসালিনের জায়গায় মোহাম্মদ ইব্রাহিম মাঠে নামেন।
৮৮ মিনিটে ফাহিমের ক্রসে রাকিব ঠিকঠাক হেড করতে না পারায় গোলের সুযোগ হারায়।
যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে আবদুল্লার শট পোস্টের সামান্য উপর দিয়ে যায়। চার মিনিট পর আবদুল্লাহ বল নিয়ে এগিয়ে গেলেও জিকো শুয়ে পড়ে ঠেকিয়ে দেন।







