পূর্ব সীমান্তে ভারতীয় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যস্ত পাকিস্তান সরকার যখন দিশেহারা, ঠিক তখনই পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে নিজেদের দখলদারি ও প্রতিরোধকে আরও জোরালো করেছে বালুচ বিদ্রোহীরা। বেলুচিস্তানের একাধিক অংশে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে একযোগে হামলা চালিয়ে বিদ্রোহীরা এখন প্রকাশ্যে স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করছে।
ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার বালুচ স্বাধীনতাপন্থী গোষ্ঠীগুলো হামলা চালায় পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর। প্রদেশের কেচ, মাস্তুং ও কাচি জেলায় মোট ছয়টি পৃথক হামলার দায় স্বীকার করেছে বালুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। কেচ জেলার দাশতুক এলাকায় রিমোট কন্ট্রোল আইইডি বিস্ফোরণে একজন সৈন্য নিহত হয়। একই দিনে, কাটগান ও জামুরান এলাকায় সেনা ফাঁড়ি ও সামরিক যান লক্ষ্য করে ভারী অস্ত্র ও বিস্ফোরণ ঘটানো হয়, যার ফলে বহু হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শুধু বৃহস্পতিবারই নয়, এর আগের দিন বুধবারও বেলুচিস্তানের বিভিন্ন স্থানে গ্যাস পাইপলাইন ও সম্পদবাহী গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। প্রদেশজুড়ে বিস্ফোরণ, গুলিবর্ষণ এবং প্রতিরোধের বহিঃপ্রকাশ পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় প্রশাসনকে প্রবল চাপে ফেলেছে। কোয়েটা শহরে পরপর চারটি হামলায় নিরাপত্তা বাহিনী ‘অজ্ঞাত সশস্ত্র ব্যক্তিদের’ সম্মুখীন হয়েছে বলে জানা গেছে।
পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শহীদ খাকান আব্বাসি স্বীকার করেছেন, ফেডারেল সরকার ও সেনাবাহিনী বেলুচিস্তানে নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে। তিনি বলেন, এটি কেবল আইনশৃঙ্খলার ভাঙন নয়, বরং রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব হ্রাসের স্পষ্ট প্রমাণ। তিনি সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের বক্তব্যকেও প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, আমি যা দেখছি তা-ই বলছি, মুনিরের বক্তব্যের সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।
গত ৬ মে বিএলএ এর দাবি অনুযায়ী, বোলান ও কেচ জেলায় দুটি পৃথক হামলায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ১৪ জন সদস্য নিহত হয়। বেলুচ লেখক মীর ইয়ার বালুচ এক্স (সাবেক টুইটার)-এ লিখেছেন, ‘বেলুচরা এখন পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে নিজেদের পতাকা উত্তোলন করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত তাদের কূটনৈতিক মিশন ইসলামাবাদ থেকে সরিয়ে বেলুচিস্তানে স্থানান্তর করা। পাকিস্তানকে বিদায়, বেলুচিস্তানে স্বাগতম।’
মীর ইয়ার বালুচও দাবি করেছেন যে বিদ্রোহীরা ডেরা বুগতিতে পাকিস্তানের গ্যাসক্ষেত্রে আক্রমণ করেছে, যেখানে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাকিস্তান পেট্রোলিয়াম লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত ১০০ টিরও বেশি গ্যাস কূপ অবস্থিত। তিনি বলেন, আমরা আমাদের স্বাধীনতা দাবি করেছি, এবং আমরা ভারতকে বেলুচিস্তানের সরকারী অফিস এবং দিল্লিতে দূতাবাস স্থাপনের অনুমতি দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।
বেলুচিস্তানের বহু দশকের ক্ষোভের মূলে রয়েছে প্রাকৃতিক সম্পদের শোষণ, অর্থনৈতিক বঞ্চনা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন। বেলুচিস্তান প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ হলেও, সেখানকার জনগণ বারবার বঞ্চিত হয়েছে তাদের অধিকার থেকে। পাকিস্তান-চীন অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) প্রকল্পের আওতায় চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর আধিপত্য আরও বাড়ায় এই ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের সাম্প্রতিক দুর্বলতা ও ভারতের ‘অপারেশন সিন্দুর’র পর উদ্ভূত কৌশলগত বিভ্রান্তির সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে বালুচ বিদ্রোহীরা।








