আরেকটি ব্যালন ডি’অর পুরস্কারের রাত দুয়ারে। কার হাতে উঠতে চলেছে জানতে ক্রীড়াপ্রেমীদের আগ্রহের কমতি নেই। সোমবার রাত ১টায় প্যারিসের দু শাতলে থিয়েটারে জানানো হবে ব্যালন ডি’অর জয়ীর নাম। ফ্রান্স ফুটবল এবং উয়েফার যৌথ উদ্যোগে ২০২৩-২৪ মৌসুমের সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি হবে এটি।
ব্যালন ডি’অর পুরস্কার প্রথমবার দেয়া শুরু হয় ১৯৫৬ সালে। প্রতিবছরের বর্ষসেরা নির্বাচিত হওয়া ফুটবলারের হাতে উঠেছে সম্মাননাটি। ফরাসি শব্দ ব্যালন ডি’অরের ইংরেজি নাম ‘গোল্ডেন বল’৷ তবে শুরুর দিকের ব্যালন ডি’অরের সাথে বর্তমানের ব্যালন ডি’অরের রয়েছে গঠনগত পার্থক্য৷
প্রথম ব্যালন ডি’অর জেতেন ইংলিশ ফুটবলার স্ট্যানলি ম্যাথুস। অনেকটা ঘরোয়াভাবে তার হাতে তুলে দেয়া হয় পুরস্কার। এখন এটি বিশ্বের আলোচিত পুরস্কারগুলোর একটি, বিজয়ীর হাতে তুলে দেয়া হয় জমকালো আয়োজনে।
শুরুর দিকে কেবল ইউরোপের সেরা খেলোয়াড়কে পুরস্কার দেয়ার নিয়ম ছিল। ১৯৯৫ সাল থেকে ইউরোপে খেলা বিশ্বের যেকোনো খেলোয়াড়ের জন্য পুরস্কারটি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ২০০৭ সাল থেকে সেটি দেয়া হচ্ছে বিশ্বের যেকোনো জায়গায় খেলা ফুটবলারকে।
বর্ষসেরা ফুটবলারকে পুরস্কৃত করতে ‘ফ্রান্স ফুটবল’ ম্যাগাজিনের সম্পাদকীয় দল ৩০ জনের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা ঠিক করে দেয়। তালিকা থেকে সেরা খেলোয়াড় বাছাইয়ের দায়িত্ব পড়ে সাংবাদিকদের। তারা পছন্দের ক্রমানুসারে মোট পাঁচজনকে ভোট দিতে পারেন। পরে ভোটের গড় ফলে বেছে নেয়া হয় ব্যালন ডি’অর জয়ীকে। ছেলেদের জন্য ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের প্রথম ১০০ ও মেয়েদের জন্য ৫০টি দেশের সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।
প্রথম নির্বাচিত খেলোয়াড়ের জন্য ৬ পয়েন্ট দেয়া হয়, দ্বিতীয় জনের জন্য ৪ পয়েন্ট, তৃতীয় জনের জন্য ৩ পয়েন্ট, চতুর্থ ও পঞ্চম হওয়ার জন্য যথাক্রমে ২ ও ১ করে পান খেলোয়াড়রা।
ব্যালন ডি’অর প্রদানের ক্ষেত্রে নির্বাচকরা আগে খেলোয়াড়দের অতীত পারফর্মও বিবেচনায় আনতেন। নতুন নিয়মে শুধু এক মৌসুমের (আগস্ট থেকে পরবর্তী আগস্ট পর্যন্ত, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাসহ) পারফরম্যান্স বিবেচ্য। সম্মানজনক পুরস্কার প্রদানে পারফরম্যান্সের পাশাপাশি খেলোয়াড়ের মান এবং খেলোয়াড়ি চেতনাও বিবেচনায় আনা হয়।
ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি আটবার পুরস্কারটি জিতেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। পাঁচবার ব্যালন ডি’অর নিজের করেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা তিনবার ব্যালন ডি’অর জেতেন ফ্রান্সের মিশেল প্লাতিনি। ফরাসি কিংবদন্তি ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত বর্ষসেরার খেতাব জেতার সময় খেলতেন জুভেন্টাসে।
১৯৯৫ সালে ইউরোপের বাইরের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এসি মিলানের লাইবেরিয়ান তারকা জর্জ উইয়াহ জেতেন ব্যালন ডি’অর। ব্যালন ডি’অর জয়ী প্রথম লাতিন আমেরিকান ব্রাজিলের রোনাল্ডো, সর্বকনিষ্ঠ বিজয়ীও। ১৯৯৭ সালে ২১ বছর বয়সে ব্যালন ডি’অর জেতেন তিনি। সবচেয়ে বেশিজন এই পুরস্কার জিতেছে জার্মানির। পাঁচ জার্মান ফুটবলার ৭টি ব্যালন ডি’অর নিজেদের করে নিয়েছেন।
২০০৩ সালের পর এই প্রথম দুই কিংবদন্তি লিওনেল মেসি-ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে ছাড়া ব্যালন ডি’অর তালিকা মনোনীত হয়েছে। এবার আছেন কাইলিয়ান এমবাপে, জুড বেলিংহাম, ফিল ফোডেন, রুবেন ডিয়াস ও এমিলিয়ানো মার্টিনেজের মতো তারকারা। তবে আলোচনায় কিছুটা এগিয়ে ব্রাজিলিয়ান ভিনিসিয়াস জুনিয়র। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে অসাধারণ এক মৌসুম পার করলেও জাতীয় দলে খুব বেশি আলো পাননি তিনি। নাম আসছে স্পেন ও ম্যানচেস্টার সিটির তারকা রদ্রিরও।
২০২৩-২৪ মৌসুমের মনোনীত যারা
জুড বেলিংহাম (ইংল্যান্ড/রিয়াল মাদ্রিদ)
রুবেন ডিয়াস (পর্তুগাল/ম্যানচেস্টার সিটি)
ফিল ফোডেন (ইংল্যান্ড/ম্যানচেস্টার সিটি)
ফেদেরিকো ভালভার্দে (উরুগুয়ে/রিয়াল মাদ্রিদ)
এমিলিয়ানো মার্টিনেজ (আর্জেন্টিনা/অ্যাস্টন ভিলা)
আর্লিং হালান্ড (নরওয়ে/ম্যানচেস্টার সিটি)
নিকো উইলিয়ামস (স্পেন/অ্যাথলেটিক বিলবাও)
গ্রানিত জাকা (সুইজারল্যান্ড/বেয়ার লেভারকুসেন)
আর্টেম ডভবাইক (ইউক্রেন/রোমা)
টনি ক্রুস (জার্মানি/রিয়াল মাদ্রিদ)
ভিনিসিয়াস জুনিয়র (ব্রাজিল/রিয়াল মাদ্রিদ)
দানি ওলমো (স্পেন/বার্সেলোনা)
ফ্লোরিয়ান ভির্টজ (জার্মানি/বেয়ার লেভারকুসেন)
মার্টিন ওডেগার্ড (নরওয়ে/আর্সেনাল)
ম্যাটস হুমেলস (জার্মানি)
রদ্রি (স্পেন/ম্যানচেস্টার সিটি)
হ্যারি কেন (ইংল্যান্ড/বায়ার্ন মিউনিখ)
ডেক্লান রাইস (ইংল্যান্ড/আর্সেনাল)
ভিতিনহা (পর্তুগাল/পিএসজি)
কোল পালমার (ইংল্যান্ড/চেলসি)
দানি কারভাহাল (স্পেন/রিয়াল মাদ্রিদ)
লামিন ইয়ামাল (স্পেন/বার্সেলোনা)
বুকায়ো সাকা (ইংল্যান্ড/আর্সেনাল)
হাকান কালহানোগ্লু (তুরস্ক/ইন্টার মিলান)
উইলিয়াম সালিবা (ফ্রান্স/আর্সেনাল)
কাইলিয়ান এমবাপে (ফ্রান্স/রিয়াল মাদ্রিদ)
লৌতারো মার্টিনেজ (আর্জেন্টিনা/ইন্টার মিলান)
অ্যাডেমোলা লুকম্যান (নাইজেরিয়া/আটলান্টা)
আন্তোনিও রুডিগার (জার্মানি/রিয়াল মাদ্রিদ)
আলেহান্দ্রো গ্রিমাল্ডো (স্পেন/বেয়ার লেভারকুসেন)







