নওগাঁয় সুলতানা জেসমিনের মৃত্যুর ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশের আহ্বান করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।
বুধবার ২৯ মার্চ বেলা সাড়ে ১২টায় রাজধানীর লালমাটিয়ায় আইন ও সালিশ কেন্দ্র(আসক) এর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই আহ্বান জানান আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এর নির্বাহী পরিচালক নূর খান লিটন।
নূর খান লিটন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের চাওয়া, অবিলম্বে বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করার নির্দেশনা দিন। যারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত তাদের চিহ্নিত করুন। আইনের আওতায় নিয়ে আসুন, বিচার করুন। আর একটি মানুষও যাতে এই ধরনের নির্যাতন, হয়রানি, খুনের শিকার না হন।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই আহ্বান জানানোর বিষয়ে তিনি বলেন: আমরা দীর্ঘদিন ধরে যেটা লক্ষ্য করছি, আমাদের আর কথা বলার সুযোগ নেই। একজনের কাছেই সবকিছু, একজনের উপরই নির্ভর করে। সেই জায়গা থেকে এই আহ্বান জানানো।
আসক-এর পরিচালক (কর্মসূচি) নীনা গোস্বামী বলেন: নারীদেরকেও এভাবে হয়রানি করা এটা আমাদের সমাজে আরও বেশি উদ্বেগজনক। এখানে নারীদের গ্রেপ্তার করার বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে নির্দেশনায় বলা হয়েছে কীভাবে গ্রেপ্তার করতে হবে। তার একটাও এখানে মানা হয়নি।

নূর খান বলেন, স্থানীয় থানা থেকে আমরা জেনেছি র্যাব জেসমিনকে আটকের বিষয়টি থানা অবহিত ছিল না। এমনকি আটকের পরেও না। যেখানে পুলিশের কাছে কোনো মামলায় হয়নি। জেসমিনের তো একটা ঠিকানা ছিল, এভাবে আটকের এখতিয়ার র্যাবের নেই।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন একটি বিতর্কিত আইন বলে আপনারা বলে আসছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসব ঘটনায় আগে আসামি গ্রেপ্তার করে এরপর মামলা দেয়। আবার আইনমন্ত্রী বলেছেন, তাদের একটি সেল আছে। মামলা হলে সেই সেল আগে সবকিছু নিরুপণ করে। জেসমিনের ক্ষেত্রে কী তার ব্যত্যয় ঘটেছে এমন প্রশ্নে নূর খান বলেন: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মানুষকে যেভাবে হয়রানী করা হচ্ছে, এজন্য আমরা মামলাটি বাতিল চেয়েছিলাম। জেসমিনের ঘটনায় যা ঘটেছে তা আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের বিপরীত ঘটনা ঘটেছে।
আসকের অনুসন্ধানে কী পাওয়া গেছে জানতে চাইলে নূর খান বলেন, আমাদের অনুসন্ধান চলছে।
এর আগে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সিনিয়র সমন্বয়কারী আবু আহমেদ ফয়জুল কবির।







