ক্ষমতা হারানোর এক বছর পর শেখ হাসিনার পতনকে আওয়ামী লীগ এখনও এই ঘটনাকে একটি দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। একইসঙ্গে দলটি অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতাকে সামনে এনে জনগণের সহানুভূতি ও রাজনৈতিক জমি পুনরুদ্ধারের কৌশল নিয়েছে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
দলটির নেতারা মনে করছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও অন্তর্বর্তী সরকারের সুশাসন ব্যর্থ হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে, যা আওয়ামী লীগের জন্য ‘ঘুরে দাঁড়ানোর’ অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে।
তবে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে চালানো দমন-পীড়ন ও সহিংসতার ঘটনায় দলটি এখনো কোনো অনুশোচনা বা ভুল স্বীকার করেনি। বরং আন্দোলন দমনকে ঘিরেও জামায়াত-শিবিরসহ বিভিন্ন পক্ষের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ সামনে এনে নিজেদের অবস্থান জোরদার করার চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের শাসনে বিরোধী দল ও জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল আওয়ামী লীগ। শেষদিকে দমনমূলক আচরণে সাধারণ মানুষের সমর্থন হারায় দলটি। সেই বাস্তবতায় ষড়যন্ত্র তত্ত্বের আশ্রয় মূলত দায় এড়ানোর কৌশল।

নেতৃত্বে এখনও শেখ হাসিনা, জয়কে সামনে আনার প্রস্তুতি
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ এখনও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সংগঠিত হচ্ছে। ভারতে আশ্রয়ে থেকেও তিনি জেলা-উপজেলা পর্যায়ে ভার্চুয়াল বৈঠক করে কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।
একইসঙ্গে তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে রাজনীতিতে আরও সক্রিয় করা হয়েছে। তিনি বিদেশে দলীয় প্রচার, যোগাযোগ ও কূটনৈতিক কার্যক্রমে যুক্ত হচ্ছেন বলে জানিয়েছে দলটি। তবে এখনো মূল নেতৃত্ব শেখ হাসিনার হাতেই থাকবে বলে নেতাদের অভিমত।

রাজনীতিতে ফেরার পথ খোলা নয়
দলটির শীর্ষ নেতারা যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও যুক্তরাজ্যে আশ্রিত থাকলেও দেশে সাংগঠনিক কাঠামো এখনও দুর্বল। মাঠপর্যায়ের কর্মীরা এক বছরের বেশি সময় ধরে আত্মগোপনে রয়েছেন। কেউ প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কার্যক্রমে সাহস দেখাতে পারছেন না।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, শুধুমাত্র সরকারের ব্যর্থতার ওপর ভর করে আওয়ামী লীগের পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন। দমনমূলক শাসন, নির্বাচনী প্রতিষ্ঠান ধ্বংস, দলীয়করণ ও গণআন্দোলনে সহিংস দমন—সব মিলিয়ে দলটির ভাবমূর্তি এখনো নেতিবাচক।
আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা
বর্তমান সরকার শেখ হাসিনাসহ অনেক নেতার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু করেছে। নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন ও প্রতীক স্থগিত করেছে। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগ মনে করে, তাদের বাইরে রেখে নির্বাচন হলে তা হবে ‘একতরফা’ ও ‘অন্তর্ভুক্তিহীন’।
তাই দলটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিকভাবে তৎপর হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র, ভারতসহ পশ্চিমা শক্তির সহানুভূতি অর্জনকে ঘিরেই এখন তাদের কৌশল।

বিশ্লেষকের মত, ষড়যন্ত্র তত্ত্বে আস্থা ফেরানো যাবে না
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ষড়যন্ত্র তত্ত্ব তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সহানুভূতি চাইছে ঠিক, তবে তা মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে যথেষ্ট নয়। ভুল না স্বীকার করে শুধু ‘অন্যের ব্যর্থতা’ তুলে ধরলে দলটির রাজনীতিতে ফেরা কঠিন হবে বলেও মত দিয়েছেন তারা।
বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে আওয়ামী লীগের নতুন কৌশল নির্ধারণ করা উচিত।








