শহীদ নূর হোসেন দিবসকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ মিছিল করতে আসা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের কয়েকজনকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যরা।
রোববার দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন পল্টন থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসিরুল আমীন।
তিনি বলেন, গুলিস্তানে নূর হোসেন চত্বর, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ ও এর আশপাশের এলাকা থেকে অন্তত ১৫ জনকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যরা। আটকদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আওয়ামী লীগ রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেওয়ার পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বলেন, বর্তমানে আওয়ামী লীগ একটি ফ্যাসিবাদী দল। বাংলাদেশে প্রতিবাদ করার মতো দলটির কোনো সুযোগ নেই। গণহত্যাকারী ও স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার নির্দেশে কেউ সভা, সমাবেশ ও মিছিলের চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করবে।
অন্তর্বর্তী সরকার কোনো সহিংসতা বা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভঙ্গের প্রচেষ্টাকে বরদাস্ত করবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন শফিকুল আলম।
এরপর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল প্রতিহতের ঘোষণা দেওয়া হয়। সংগঠনটির সমন্বয় হাসনাত আবদুল্লাহ ফেসবুকে পোস্ট করে ছাত্রদের উদ্দেশ্যে এ ব্যাপারে বার্তা দেন। কয়েকটি মহাবিদ্যালয়ের নাম উল্লেখ করে তাদের দাওয়াতও দেন। এরপরই সকাল থেকে গুলিস্তান এলাকায় ছাত্র-জনতার ঢল নামে।
এর আগে গতকাল শনিবার আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টার পোস্ট করা হয়। যাতে লেখা, ‘১০ নভেম্বর আসুন জিরো পয়েন্টে, বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে’। পরে আওয়ামী লীগের ফেসবুক পেজে অপর এক পোস্টে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে লেখা হয়, ‘স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায়, গণতন্ত্র ও সুবিচার প্রতিষ্ঠায় দলে দলে ঢাকায় আসুন।’ পোস্টে বিকাল ৩টায় কর্মসূচি শুরু হবে বলে জানানো হয়।
আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ঘোষণার পর পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এই আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ নিজের ভেরিফায়েড প্রোফাইলে করা পোস্টে রোববার গণজমায়েতের ডাক দিয়ে লিখেছেন, ‘পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের বিচারের দাবিতে গণজমায়েত’।
তাদের এই কর্মসূচি ঘোষণার পরপরই শনিবার রাতে গুলিস্তানে ব্যাপক জনসমাগম লক্ষ্য করা গেছে। তাদের কারো কারো হাতে লাঠিসোঁটাও দেখা যায়। গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে সেখানে জড়ো হওয়া ব্যক্তিরা জানান, তারা আওয়ামী লীগের কর্মসূচি প্রতিহত করতে জিরো পয়েন্টে এসেছেন।
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর এখনও দলটি সফলভাবে কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারেনি। এর আগে ১৫ আগস্ট, জেল হত্যা দিবসের মতো দিনগুলো নেতাকর্মীদের পালনের আহ্বান জানালেও তাতে খুব একটা সাড়া মেলেনি।







