ঝালকাঠির নলছিটিতে চালককে হত্যা করে অটো ছিনতাইয়ের ঘটনায় তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একসঙ্গে দশ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার ২৩ সেপ্টেম্বর ঝালকাঠির জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মাহেব হোসেন এবং আসামি পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান ও অ্যাডভোকেট মোজাম্মেল হোসেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- আ. রহমান ফরাজী ওরফে মিন্টু ফরাজী মাদারীপুরের নয়াচর এলাকার মৃত রশিদ ফরাজির পুত্র, মো. রুবেল হাওলাদার বরিশাল দূর্গাপুর এলাকার মৃত. আ. রাজ্জাকের পুত্র ও কেন্নান খান দূর্গাপুর এলাকার মৃত. আফছের খানের পুত্র। রায় ঘোষণার সময় রুবেল হাওলাদার উপস্থিত থাকলেও মিন্টু ফরাজী এবং কেন্নান খান পলাতক ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, নলছিটির তিমিরকাঠি এলাকার ইজিবাইক চালক মো. সোবাহান খলিফা ২০২১ সালের ১৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে গাড়ি নিয়ে বের হয়ে রাতে আর ফেরেননি। পরদিন সকাল সোয়া ৭টায় উপজেলার শ্রীরামপুর এলাকায় আমড়া গাছের নীচে মরদেহ পড়ে রয়েছে বলে চৌকিদার মারফত পরিবার জানতে পারে। সংবাদ পেয়ে স্বজনরা মরদেহ শনাক্ত করলে নলছিটি থানা পুলিশ তা উদ্ধার করে। প্রাথমিক সুরতহাল শেষে সদর হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের পরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এঘটনায় মৃতের পুত্র আল মামুন নলছিটি থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর এসআই মফিজুর রহমান মামলাটি তদন্ত করে তথ্য- প্রযুক্তি ও সিসি টিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তিনজনকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেফতার করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্বীকারোক্তি ও জবানবন্দি অনুযায়ী নিয়মিত আসামি করে ৩ জনকেই অভিযুক্ত করে ২০২৩ সালের ২৮ মার্চ অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মফিজুর রহমান। ৩০২/২০১/৩৭৯/৩৪ দন্ডবিধি আইনে ওই বছরের ২৫ জুলাই চার্জগঠন করে বিচার কার্য শুরু হয়।
১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ৩ জনকেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং দশ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের দণ্ডাদেশ দেয়া হয়।








