জন্মহার হ্রাসের ঝুঁকিতে অস্ট্রেলিয়া

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ায় জন্মের চেয়ে মৃত্যু বেশি হচ্ছে। ২০৬০-এর দশকে এমনটি ঘটবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দেশটিতে বর্তমানে দ্রুত জন্মহার কমছে। পাশাপাশি বাড়ছে বয়স্ক জনসংখ্যা।
সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
কয়েক দশক ধরে জন্মহারের ঘাটতি পূরণের জন্য অস্ট্রেলিয়া অভিবাসনের ওপর নির্ভরশীল ছিল। এর মাধ্যমে জন্মহারের ঘাটতি পূরণ করে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ধরে রেখেছিল।
তবে বর্তমানে অভিবাসনের হার কমছে যার ফলে জাপান, জার্মানি ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো উন্নত দেশগুলোর পথেই এগোচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। এসব দেশে ইতোমধ্যে জন্মের চেয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি হয়েছে।
জনসংখ্যায় এই পরিবর্তনের ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে। কারণ দেশটি একই সময়ে বয়স্ক জনসংখ্যা, কমে যাওয়া জন্মহার এবং অভিবাসন কমানোর মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে।
সোমবার প্রকাশিত ‘ইন্টারজেনারেশনাল রিপোর্টে’ অস্ট্রেলিয়ার ট্রেজারি বিভাগ দেশটির অর্থনীতির সামনে আগামী চার দশকের পাঁচটি বড় পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেছে। এগুলো হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ভূরাজনৈতিক বিভাজন, জ্বালানি খাতে পরিবর্তন, বয়স্ক জনসংখ্যা এবং সেবাভিত্তিক অর্থনীতির দিকে অগ্রসর হওয়া।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী চার দশকে অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমে বার্ষিক ০.৯ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। বর্তমানে দেশটিতে প্রজনন হার কমছে। এছাড়া নিট বৈদেশিক অভিবাসনও স্থিতিশীল হওয়ার আগে ক্রমাগত কমতে থাকবে। গত ৪০ বছরে দেশটিতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির গড় হার ছিল ১.৪ শতাংশ।
ট্রেজারার জিম চালমারস এক ভাষণে স্বাস্থ্যখাতের সংকটের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ২০৬৬ সালের মধ্যে ৮৫ বছরের বেশি বয়সী অস্ট্রেলিয়ানদের সংখ্যা তিনগুণ হবে। এতে স্বাস্থ্যসেবার ওপর বাড়তি চাপ পড়বে।
গত সপ্তাহে অভিবাসন নীতি কঠোর করেছে অস্ট্রেলিয়ার বামপন্থী লেবার সরকার। ডানপন্থী পপুলিস্ট ‘ওয়ান নেশন’ দলের প্রতি দেশটিতে মানুষের সমর্থন বাড়ছে। ওই দলটিও অভিবাসন কঠোরভাবে কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ মূলত তাদের ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। চলতি সপ্তাহে আলবানিজের জনপ্রিয়তার রেটিংও তলানিতে নেমেছে। ২০২২ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এটি তার সর্বনিম্ন অবস্থান।
বয়স্ক জনগোষ্ঠীর কারণে সেবা খাতে চাহিদা বাড়বে বলে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে। বয়স্ক অধ্যুষিত এলাকাগুলো স্বাস্থ্য ও বয়স্ক সেবা খাতে বড় ধরনের শ্রমিক সংকটে পড়বে। অথচ এসব খাত মূলত প্রবাসী শ্রমিকদের ওপর নির্ভরশীল।
ভবিষ্যৎ বাজেটে কর কমানোর ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।
অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ মানুষ উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং গৃহঋণের বাড়তি সুদের কারণে দিশেহারা। এ ছাড়া আবাসন খরচও তাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। তাই নাগরিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে সরকার বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বয়স্ক জনসংখ্যা বাড়ার কারণে পরিচর্যা সেবার চাহিদাও বাড়বে। বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বেশি এমন অঞ্চলগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা ও বয়স্কদের পরিচর্যা খাতে কর্মীর ঘাটতি আরও বাড়তে পারে। এসব খাত বর্তমানে অভিবাসী কর্মীদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
এ ছাড়া ভবিষ্যতের বাজেটে কর কমানোর বিষয়টিও সামনে আসতে পারে বলে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় মূল্যস্ফীতি, উচ্চ বন্ধকি ঋণের সুদ এবং আবাসনের বাড়তি খরচের কারণে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। এর মধ্যে সরকার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ কমাতে আরও সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে।






