অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে গতবছর ইংল্যান্ডের ভরাডুবি হয়েছিল। ৪-০ ব্যবধানে ছিল অ্যাশেজ পরাজয়। চতুর্থ টেস্টে কোনোরকমে ড্র করে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়াতে পেরেছিল ইংলিশরা। বরখাস্ত হয়েছিলেন কোচ ক্রিস সিলভারউড। ইসিবির ম্যানেজিং ডিরেক্টরের পদ থেকে স্বেচ্ছায় সরে গিয়েছিলেন অ্যাশলে জাইলস।
পরে সাবেক কিউই ক্রিকেটার ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের কোচের দায়িত্ব নেন। তার আক্রমণাত্মক খেলার কৌশল কাজে লাগিয়ে সাদা পোশাকে আমূল পাল্টে যায় দলটির পারফরম্যান্স। নিয়মিত পেতে থাকে দাপুটে সব জয়ের দেখা।
আসছে জুনে ইংল্যান্ডের মাটিতে বসবে অ্যাশেজ সিরিজ। বদলে যাওয়া ইংলিশদের বিপক্ষে দেশের বাইরের চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত অজিরা। আগের সিরিজে প্রতিপক্ষকে নাস্তানাবুদ করার সুখস্মৃতি তাদের উজ্জীবিত করতে পারে!
দুদলের কথার লড়াইটাও ঐতিহ্যগত, বেশ আঁচ করা যায় অ্যাশেজ ঘিরে কথা চালাচালির উত্তাপ। যা শুরু করে দিলেন স্টুয়ার্ড ব্রড। ইংল্যান্ড পেসার অতিথি দলকে আগেভাগেই করে বসলেন আক্রমণ। ২০২১-২২ মৌসুমে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাশেজ জেতাকে তিনি প্রকৃত সিরিজ জয় হিসেবেই মানতে নারাজ।
ব্রিটিশ গণমাধ্যমে বিস্ফোরক এক মন্তব্য করেছেন ব্রড। বলেছেন, ‘সবশেষ অ্যাশেজ সিরিজের চেয়ে কঠিন কিছু ছিল না। তবে আমি এটাকে সত্যিকারের অ্যাশেজ হিসেবে গণ্যই করি না। অ্যাশেজ ক্রিকেটের সংজ্ঞা হল এটা অভিজাত খেলা, যেখানে প্রচুর আবেগ এবং খেলোয়াড়রা তাদের খেলার সেরা অবস্থানে থাকে।’
‘কোভিডের বিধি-নিষেধের কারণে সেই সিরিজে মোটেও সেরা পর্যায়ের পারফরম্যান্স ছিল না। প্রশিক্ষণের সুবিধা, ভ্রমণ, সামাজিকভাবে এক থাকতে না পারা- এসবের জন্য আমি এটাকে একটি অকার্যকর সিরিজ হিসেবেই লিপিবদ্ধ রেখেছি।’
থ্রি লায়ন্সদের ডেরা থেকে ব্রডের মন্তব্যই প্রথম অভিযোগ নয়। গতবছরের অস্ট্রেলিয়া সফর শুরুর আগে কিছু খেলোয়াড় বলেছিলেন, দেশটিতে প্রবেশের জন্য পরিবারকে ছাড় না দিলে তারা নাম প্রত্যাহার করবেন। প্রতিকূল আবহাওয়ার জন্য ইংল্যান্ডের প্রায় সকল প্রস্তুতি পণ্ড হওয়ায় তারা হতাশ হয়ে পড়েছিল।
ইংল্যান্ড দলের তিন কোচিং স্টাফ ও তাদের পরিবারের চারজন পজিটিভ এসেছিলেন। বক্সিং-ডে টেস্টের সময় দ্বিতীয় দিনের খেলা আধাঘণ্টা মাঠে গড়ানোর পর জানা গিয়েছিল একজন স্টাফের পজিটিভ আসার কথা। যে স্টাফরা আক্রান্ত হয়েছিলেন, তাদেরই কারও সংস্পর্শে আসায় তখনকার কোচ সিলভারউডকে ১০ দিনের বাধ্যতামূলক আইসোলেশনে পাঠানো হয়েছিল। কোয়ারেন্টাইনের শর্তে অসন্তুষ্ট ছিলেন সিলভারউড।








