এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
আজ ২১ আগস্ট, দেশের ইতিহাসে এক ভয়াবহ ও বিভীষিকাময় ঘটনার ২১তম বার্ষিকী। ২০০৪ সালের এই দিনে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী শান্তি সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় প্রাণ হারান ২৪ জন। আহত হন দলের শতাধিক নেতা-কর্মী, অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা। দীর্ঘ ২১ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ হয়নি হামলার বিচারপ্রক্রিয়া। বর্তমানে উচ্চ আদালতে চলমান রয়েছে আপিলের শুনানি।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ চলাকালে পরপর কয়েকটি গ্রেনেড ছোঁড়া হয় তৎকালনী বিরোধি দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে। তবে দলীয় নেতা-কর্মীরা মানবঢাল তৈরি করে তাকে রক্ষা করলেও প্রাণ হারান মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আইভি রহমানসহ আরও ২৩ জন। শতাধিক আহতদের অনেকে আজও পঙ্গু জীবনযাপন করছেন।
ঘটনার পরদিন মতিঝিল থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা দায়ের করা হয়। শুরুতে তদন্তে নানা গড়িমসি ও বিতর্ক তৈরি হয়। এরপর ২০০৭ সালের এক-এগারো সরকারের আমলে মামলার তদন্তভার নতুন করে নেয় সিআইডি এবং ২০০৮ সালে ২২ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর মামলার অধিকতর তদন্ত করে আরও একটি সম্পূরক অভিযোগপত্র দেওয়া হয়, যেখানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ আরও ৩০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।
২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ মামলার রায় ঘোষণা করে। রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তারেক রহমানসহ আরও ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট ট্রাইব্যুনালের রায় বাতিল করে দেয় এবং সব আসামিকে খালাস দেয়। পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়, ঘটনাটি দেশের ইতিহাসে একটি জঘন্য ও মর্মান্তিক সন্ত্রাসী হামলা হলেও মামলাটির যথাযথ ও স্বাধীন তদন্ত হয়নি। এতে নতুন করে বিশেষজ্ঞ সংস্থার মাধ্যমে তদন্তের পরামর্শ দেওয়া হয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে এবং চলতি বছরের ১ জুন আপিল বিভাগ তা মঞ্জুর করে। এরপর মামলার পেপারবুক থেকে উপস্থাপনের মাধ্যমে ১৭ জুলাই শুরু হয় আপিল শুনানি। ৩১ জুলাই, ১৯ আগস্ট এবং ২০ আগস্ট পর্যন্ত এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।








