সূত্র: ডয়েচে ভেলে (ডিডব্লিউ)।
ক্ষমতাসীন দলের আইনপ্রণেতারা পার্লামেন্ট থেকে ওয়াকআউট করার পর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের অভিশংসনের একটি প্রস্তাব ব্যর্থ হয়। তবে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী ইউনের পদত্যাগ চেয়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন।
অভিশংসনের ভোটগ্রহণ শুরুর পরপরই ক্ষমতাসীন পিপল পাওয়ার পার্টি (পিপিপি) এর অধিকাংশ আইনপ্রণেতা পার্লামেন্ট থেকে বেরিয়ে যান৷ মোট ভোট ২০০ তে না পৌঁছানোয় ব্যালট গণনা না করেই প্রস্তাবটি বাতিল করা হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে ৩০০টি আসন রয়েছে। অভিশংসনের প্রস্তাব পাসের জন্য প্রয়োজন দুই-তৃতীয়াংশ আইনপ্রণেতার সমর্থন অর্থাৎ অন্তত ২০০টি ভোট। গত সপ্তাহে ইউন সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য সামরিক আইন ঘোষণা করার পর বিরোধী দলগুলো অভিশংসন প্রস্তাব উত্থাপন করে৷ পার্লামেন্টে বিরোধী দলগুলোর সম্মিলিতভাবে ১৯২টি আসন রয়েছে।
অভিশংসন প্রস্তাব পাসের জন্য ক্ষমতায় থাকা পিপিপির অন্তত আটটি ভোট প্রয়োজন ছিল৷ পিপিপি এর সদস্যরা পার্লামেন্ট থেকে ওয়াকআউট করলেও তিনজন সদস্য ভোটে অংশ নেন৷ তবে তাতে প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন অর্জন সম্ভব হয়নি।
দক্ষিণ কোরিয়ার পার্লামেন্টের স্পিকার উ ওন-শিক প্রধান বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির একজন সদস্য৷ ক্ষমতাসীন পিপিপি পার্টির আইনপ্রণেতাদের অভিশংসনের শুনানিতে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।
পিপিপি সদস্যরা পার্লামেন্ট থেকে ওয়াকআউট করার পর দলটির কেবল একজন সংসদসদস্য আসনে বসেছিলেন। উ ওন-শিক পিপিপি এর আইনপ্রণেতাদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘‘মানুষের রক্ত এবং অশ্রু দিয়ে তৈরি কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের গণতন্ত্র৷ আপনারা কি ইতিহাস, মানুষ এবং বিশ্বের বিচারের ভয় পান না?”
তবে তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে ফিরে আসেননি পিপিপি সদস্যরা। পিপিপির একজন আইনপ্রণেতা শিন ডং-উককে উদ্ধৃত করে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের বিরুদ্ধে অভিশংসনের শুনানিতে ভোট দিতে দল থেকে কোনো বাধা দেয়া হয়নি।
ওয়াকাআউট না করা একজন পিপিপি আইনপ্রণেতা ভোটে অংশ নেন৷ পরবর্তীতে আরও দুই পিপিপি সদস্য ভোটের জন্য পার্লামেন্টে ফিরে আসেন বলে জানিয়েছে দেশটির বার্তাসংস্থা ইয়োনহাপ।
ক্ষমতাসীন দলের আইনপ্রণেতারা বয়কট করায় অভিশংসনের প্রস্তাব ভেস্তে যাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন বিক্ষোভকারীরা। পুলিশ জানিয়েছে, জাতীয় পরিষদের চারপাশে প্রায় দেড় লাখ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন।
ফার্স্ট লেডি কিম কিয়ন হি এর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর প্রস্তাবও পার্লামেন্টে পাস না হওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেছেন অনেকে৷ মাত্র দুই ভোটের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ আইনপ্রণেতার সমর্থন পাওয়া যায়নি এই বিলে৷ ফার্স্ট লেডির বিরুদ্ধে তদন্তের পক্ষে ১৯৮টি এবং বিপক্ষে ভোট পড়ে ১০২টি।
প্রতিবাদকারী আন জুন-চেওল বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, পরিস্থিতি এই পর্যায়ে পৌঁছানোয় আমি খুব খারাপ বোধ করছি৷ ভোট দেয়া থেকে সরে গিয়ে আজ ক্ষমতাসীন দলের আইনপ্রণেতারা যা করেছেন, সেটা জনগণকে কোনো গুরুত্ব না দিয়ে নিজেদের ক্ষমতা এবং মর্যাদা রক্ষার চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার দৈনিক দ্য কোরিয়ান টাইমস জানিয়েছে, কোরিয়ান কনফেডারেশন অফ ট্রেড ইউনিয়ন (কেসিটিইউ) গত সপ্তাহে ইউনের সামরিক আইন জারি করার প্রচেষ্টার নিন্দা জানিয়েছে।
কেসিটিইউ নেতা ইয়াং কিয়ং-সু জাতীয় পরিষদের সামনে বক্তৃতায় বলেন, ‘‘আজ ঠিক এখানেই আমরা ইউন সুক ইওলের সমাপ্তি সূচনা করবো৷ আসুন আমরা আরও শক্তিশালী প্রতিবাদের মাধ্যমে তার শাস্তি নিশ্চিত করি।”
বিরোধী দলগুলো জানিয়েছে, শনিবারের অভিশংসন চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় তারা শিগগিরই আরেকটি বিল উত্থাপন করতে পারে।







