আদাবরে বাড়ি দখলের চেষ্টা: পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলিতে গুলিবিদ্ধ ২

রাজধানীর আদাবরে বাড়ি দখলের চেষ্টা, ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির মামলায় অভিযুক্ত দুই তরুণ পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ঘটনা এখন পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে চাপাতি, সামুরাই ও কিরিচ উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ২টা ৩৫ মিনিটের দিকে আদাবর থানার নবোদয় হাউজিং কাঁচাবাজারসংলগ্ন মেলার মাঠের পেছনে খালপাড়ের ফাঁকা জায়গায় এ ঘটনা ঘটে।
আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর জানান, শ্যামলী হাউজিংয়ের ৮ নম্বর সড়কের একটি বাড়ি দখলের চেষ্টা, ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির অভিযোগে ২৭ সেপ্টেম্বর আদাবর থানায় মামলা হয়। ওই মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালাচ্ছিল পুলিশ।
ওসি জানান, সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, মামলার কয়েকজন আসামি নবোদয় হাউজিং কাঁচাবাজারসংলগ্ন মেলার মাঠের পেছনে খালপাড়ে অবস্থান করছেন। পরে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশের একটি দল।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সাত থেকে আটজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে পুলিশকে আক্রমণের চেষ্টা করেন বলে জানান ওসি। এ সময় আত্মরক্ষার্থে কনস্টেবল মোশরেকুল ইসলামের শটগান থেকে দুটি গুলি ছোড়া হয়। এতে রাজিব হাওলাদার ও সাগর ওরফে ছোট বিগার পায়ে গুলিবিদ্ধ হন।
পরে ঘটনাস্থল থেকে রাজিব, সাগর, শাকিব ও রাশেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যরা পালিয়ে যান। ঘটনাস্থল থেকে স্টিলের ধারালো চাপাতি, সামুরাই ও কিরিস উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার রাজিব হাওলাদার মোহাম্মদপুরের আলোচিত বাবু হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত এক নম্বর আসামি। সাগর ওরফে ছোট বিগারের বিরুদ্ধে আদাবর ও মোহাম্মদপুর থানায় আটটি মামলা রয়েছে। শাকিব ও রাশেদের বিরুদ্ধেও পাঁচটি করে মামলা রয়েছে।
গুলিবিদ্ধ রাজিব ও সাগরকে চিকিৎসার জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
এর আগে মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান হাউজিংয়ে ৩৫ কাঠা জমি দখলের চেষ্টার ঘটনায় আটজন এবং আদাবরের শ্যামলী হাউজিংয়ে একটি বাড়িতে হামলার ঘটনায় পাঁচজনসহ মোট ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার জুয়েল রানা জানান, রোববার ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গত শনিবার চাঁদ উদ্যান হাউজিংয়ের রোজ ভিলা-সংলগ্ন ৩৫ কাঠা জমিতে ১৫০ থেকে ২০০ জনের একটি দল প্রবেশ করে পুরোনো বেড়া ভেঙে নতুন বেড়া দিয়ে দখলের চেষ্টা করে বলে পুলিশের ভাষ্য। একই দিন সকালে শ্যামলী হাউজিংয়ের একটি আটতলা বাড়িতে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল হামলা চালায়। বাসিন্দাদের অভিযোগ, হামলাকারীরা টাকা দাবি করে এবং চাপাতি-রামদা দিয়ে বাড়ির গেট, সিসিটিভি ক্যামেরা ও জানালার কাচ ভাঙচুর করে।





