বরিশাল নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানে মেট্রোপলিটন পুলিশের এক কর্মকর্তার স্ত্রীর উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত কিশোর গ্যাংয়ের ইয়ামিন (১৬) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার ১৩ অক্টোবর গ্রেপ্তার ইয়ামিনকে (১৬) বিশেষ ব্যবস্থায় আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে বঙ্গবন্ধু উদ্যানের হেলিপ্যাড এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলার শিকার মেট্রোপলিটন পুলিশের সার্জেন্ট টুটুলের স্ত্রী সিফাত জাহান মীম ১০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জয়নাল আবেদীনের ছেলে আশরাফুল হকসহ ২৫ জনকে আসামী করে থানায় একটি মামলা করেন। আটক ইয়ামিন বঙ্গবন্ধু উদ্যান সংলগ্ন কেডিসি বস্তির বাসিন্দা আলমগীর হোসেনের ছেলে।
কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, হামলার ঘটনায় টুটুলের স্ত্রী মামলা করেন। অভিযুক্তদের একজনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদের আটকের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালানা করা হচ্ছে।
সিফাত জাহান মীম জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে বড় বোন, তাদের ছেলে মেয়ে এবং কয়েকজন বান্ধবী মিলে বঙ্গবন্ধু উদ্যানের হেলিপ্যাডে অবস্থান করছিলেন। এর কিছুক্ষণ পর ২০ থেকে ২৫ জন কিশোর উদ্যানে হেলিপ্যাডে এসে একটি কেক কাটে। কেক কাটা শেষে তারা মাদক সেবন করছিল। এর কিছুক্ষণ পর একটি ছেলে তাদের কাছে গিয়ে মীমের সাথে থাকা পোশা বিড়ালকে বিরক্ত করতে থাকে।
তিনি বলেন, কিশোরদের এমন আচরণ দেখে তারা সেখান থেকে চলে যাইতে চাইলে, তারা অশালীন অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শনসহ গালাগাল করতে থাকে। এর প্রতিবাদ করায় ইয়ামিন নামের ওই ছেলে লাথি, কিল-ঘুষি মেরে তাকে রাস্তার উপরে ফেলে দেন।
পরে বঙ্গবন্ধু উদ্যানের দর্শনার্থীরা মীমকে কিশোর গ্যাংয়ের হাত থেকে উদ্ধার করেন। হামলার কিছুক্ষণ পর, স্থানীয় ১০ নম্বর কাউন্সিলর জায়নাল আবেদীনের ছেলে আশরাফুল দলবল নিয়ে দ্বিতীয়বার হামলা চালানোর চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ এলে তারা পালিয়ে যায়।
মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ফলজুল করীম বলেন, ওই ঘটনায় সার্জেন্টের স্ত্রী থানায় একটি মামলা করেন। এতে কিশোর গ্যাংয়ের ইয়ামিন, রিফাত, আশরাফুল, রাতুল, মিরাজসহ পাঁচ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২০ জনকে আসামী করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ঘটনার সাথে যারা যুক্ত ছিল তাদের সবাইকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে। তাতে সে যত বড়ই ক্ষমতাধর হোক না কেন। গ্রেপ্তার ইয়ামিনকে পুলিশ হেফাজতে রেখে জিঞ্জাসাবাদ করা হচ্ছে।








