রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র অধিকার পরিষদের দুই নেতার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১১ মে) রাত সাড়ে ৯ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ কুদরাত-এ-খুদা একাডেমিক ভবন সংলগ্ন রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে।
হামলায় আহতরা হলো, বৃহত্তর চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক রোনাল চাকমা ও রাবি শাখার নব গঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক শামীন ত্রিপুরা। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য আরেকটি সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ওপর অভিযোগ করেন।
এই ঘটনায় শামীন ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গতকাল রাতে শহীদ হবিবুর রহমান হল থেকে শেরে বাংলা হলে যাওয়ার পথে বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. কুদরাত-এ-খুদা একাডেমিক ভবন সংলগ্ন রাস্তায় হামলাকারীরা আমাদের পথরোধ করেন। এসময় জেএসএস সমর্থিত রাজশাহী মহানগর শাখা পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের চিহ্নিত ১৫-২০ জন দুর্বৃত্ত চলন্ত রিকশা আটকিয়ে আমার এবং আমার বড় ভাইয়ের (রোনাল চাকমা, চবি শিক্ষার্থী) ওপর হাতুরি, ইট এবং দেশিয় অস্ত্র দিয়ে শারীরিকভাবে জখম করে। স্থানীয় পথচারী এসে পড়লে তারা পালিয়ে যায়। এছাড়াও বিগত কিছুদিন আগে থেকে আমাকে কল দিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
এসময় হামলাকারীদের কয়েকজনকে চিনতে পারেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী এ দুই নেতা।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্র নেতা বলেন, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র অধিকার পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ নাম দুটো শুনতে একই রকম মনে হলেও কিছু পার্থক্য রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ নামের এই সংগঠনটি মূলত পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি ১৯৯৭ এর পক্ষে কাজ করে। এছাড়াও এদের কর্মকাণ্ডে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) পক্ষের শক্তি মনে হয়। তবে, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র অধিকার পরিষদ পাহাড়িদের নানা আন্দোলন সংগ্রামে পাশে থাকে। নির্যাতনের বিরুদ্ধে রূখে দাড়ায়। আবার শান্তিচুক্তির সমালোচনাও করেন এবং প্রগতিশীল ধারার রাজনীতি করেন তারা।
এ বিষয়ে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক রোনাল চাকমা বলেন, আমরা নতুন কমিটি করেছি। আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এসেছিলাম। একটা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সকলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার এবং কথা বলার সুযোগ থাকা প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের সংগঠনের কার্যক্রমে নানাভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে। আজকের এই হামলার আমরা সুষ্ঠু বিচার চাই।
জানতে চাইলে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র অধিকার পরিষদের নব গঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক শামীন ত্রিপুরা বলেন, আমি ক্যাম্পাসে আসার প্রথম মাসেই আমাকে ফোন কলে মামলা দেওয়ার হুমকি দেয়া হয়েছিল। যত দিন যাচ্ছিল এ নির্যাতন বাড়ছিল। কিন্তু আমি রক্ষণশীলভাবে রাজনীতি করে এগিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে জ্ঞান চর্চা এবং মুক্ত বুদ্ধির প্রগতিশীল রাজনীতি করার সুযোগ ছিল সেখানে এ হামলা নেক্কারজনক। এদেশে আমরা বিচারহীনতা ও দায় মুক্তি সব সময়ই দেখতে পাই। তবে এ ঘটনার বিচার আমরা চাই।
মারধরের বিষয় স্বীকার করে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের রাবি শাখার সভাপতি জিনিস চাকমা বলেন, আমরা ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন যাবৎ পাহাড়ি ছাত্রদের নানা অধিকারের বিষয়ে কথা বলে আসছি। নতুন এই সংগঠনটি কাল হঠাৎ বহিরাগতদের দিয়ে সম্মেলন করে তাদের নতুন কমিটি ঘোষণা করেন। এবিষয়ে আলাপ করতে রিক্সায় যাওয়ার পথে শামীন ত্রিপুরাকে ডাক দেই। তবে তিনি ডাক না শোনায় আমরা জোর করে রিক্সা থামাই। এসময় শামিন ধাক্কা লেগে রিক্সা থেকে পড়ে যায়। এসময় আমাদের ভিতর একটু বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, তবে তারা বিষয়টা যেভাবে প্রচার করছেন বিষয়টা এমন ছিল না মোটেই। আমরাই প্রক্টরকে ফোন দিয়ে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করি।
এদিকে, ঘটনার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবি জানিয়ে আজ রোববার (১২ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটে সমাবেশ করে সংগঠনটি। এসময় তাদের প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি শাকিল হোসেন, ও ছাত্র ইউনিয়নের যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিব হোসেন।
জানতে চাইলে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক বলেন, একটা অভিযোগ পেয়েছি। আমি তাদেরকে একটা লিখিত অভিযোগ জমার নির্দেশনা দিয়েছি। এখনো অভিযোগপত্র হাতে পাইনি। যেহেতু আমরা পাহাড়িদের সম্পর্কে তুলনামূলক কম জানি। তাই অভিযোগ হাতে না পেয়ে আপাতত কিছু বলতে পারব না।
প্রসঙ্গত, গতকাল রাবির কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় সকাল ৯ টায় এক সম্মেলনের মধ্য দিয়ে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ৭ম কাউন্সিল সম্পন্ন হয়। এ কাউন্সিলে সমু চাকমাকে সভাপতি ও শামীন ত্রিপুরাকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।








