ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার (ডিএমপি) খন্দকার গোলাম ফারুক বলেছেন, অতীতের মতো দুষ্কৃতকারীরা যেন ইমামবাড়ায় দুর্ঘটনা না ঘটাতে পারে সেলক্ষ্যে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে মহানগর পুলিশ। পবিত্র আশুরা উপলক্ষে আয়োজকদের কিছু পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।
বিগত ২০১৫ সালে বোমা বিস্ফোরণের পর থেকে আশুরা উপলক্ষে আয়োজিত তাজিয়া মিছিলের নিরাপত্তা গুরুত্বসহকারে দেখা হয় বলেও জানান তিনি।
বুধবার ২৬ জুলাই রাজধানীর হোসাইনী দালান ইমামবাড়ায় পবিত্র আশুরা উদযাপন ও তাজিয়া/শোক মিছিল উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, আপনারা জানেন আগামী ২৯ জুলাই পবিত্র আশুরা। গত সাড়ে ৪০০ বছর ধরে শিয়া সম্প্রদায় এই ইমামবাড়া থেকে তাজিয়া মিছিল ও প্রার্থনাসহ অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করে থাকেন। প্রতিবারই শান্তিপূর্ণভাবে এই অনুষ্ঠান পালিত হয়ে। কিন্তু বিগত ২০১৫ সালে তাজিয়া মিছিলে এখানে বোমা বিস্ফোরণ হয়েছিলো। ধর্মীয় উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদ যারা তারা এ ঘটনা ঘটিয়ে ছিলো।
তিনি বলেন, তার পর থেকে এই অনুষ্ঠানের নিরাপত্তাটাকে আমরা বিশেষ গুরুত্বসহকারে দেখি। যাতে পুনরায় কোনো জঙ্গি গোষ্ঠী এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটাতে না পারে। তার প্রেক্ষাপটে আজ আমরা এখানে ঘুরে ঘুরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখলাম। আমরা ইমামবাড়া এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে এসেছি। রাস্তাগুলো সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। এই এলাকার সামনে-পিছনে সাদা পোশাক ও পোশাক পরিহিত পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত থাকবে। এই পুরো এলাকাটা আমরা ডগ স্কোয়াডের মাধ্যমে সুইপিং করাব। এছাড়া মেশিনের সাহায্যে ম্যানুয়াল সুইপিং করাব, যাতে পুনরায় কোনো দুষ্কৃতকারী এখানে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটাতে পারে।
তিনি আরও বলেন, আগামী ১০ মহরম উপলক্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বিভাগ সর্বদা সচেষ্ট থাকব। আমরা আশা করব আগামী ২৭, ২৮ ও ২৯ জুলাই অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে এই অনুষ্ঠান পালিত হবে। এক্ষেত্রে আয়োজকদের প্রতি আমাদের কিছু পরামর্শ আছে- তাজিয়া মিছিলে যেন উচ্চস্বরে ডাক-ঢোল না বাজানো হয়, গায়ে চাদর ঢেকে কোনো লোক যেন চলাফেরা না করে, শরীরের আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করা শিশুদের জন্য দৃষ্টিকটুর হয়ে এসব বিষয় এড়িয়ে চলা। আয়োজকদের সঙ্গে মিটিং করে এসব বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছি। উনারাও কিছু নিরাপত্তা পরামর্শ দিয়েছেন। আশা করব সুষ্ঠু সমন্বয়ের মাধ্যমে আমরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করব।







