ইসরায়েলি হামলায় লেবাননের শক্তিশালী সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরাল্লাহ নিহতের ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েল ও লেবাননের হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সংবাদ মাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসে রোববার ২৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণে বলা হয়, গাজা-ইসরায়েল সংঘাত থামাতে বারবার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া সত্ত্বেও যুদ্ধ থামাতে ব্যর্থ হয়েছে জাতিসংঘসহ বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলো। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রেরও মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনাপ্রবাহকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে গত শুক্রবার হিজবুল্লাহর নেতা হাসান নাসরাল্লাহর হত্যার ঘটনার পর শান্তি আলোচনায় সাফল্যের সম্ভাবনা অনিশ্চিত বলে মনে হচ্ছে। যদিও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী মনে করছে, হিজবুল্লাহ এখন দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি দূর না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে দেশটি অবস্থান নিতে পারে। এরই মধ্যে সীমান্তঘেঁষা এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর সম্ভাব্য স্থল অভিযানের প্রস্তুতির ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ পেয়েছে।
তবে ইসরায়েলের সঙ্গে সর্বশেষ যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ১৮ বছর ধরে হিজবুল্লাহ নিজেদের যোদ্ধাদের পরবর্তী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করেছে, প্রশিক্ষণ দিয়েছে। নিহত হওয়ার আগেও সর্বশেষ প্রকাশ্য বক্তৃতায় হাসান নাসরাল্লাহ তার অনুসারীদের সঙ্গে লেবাননের দক্ষিণ সীমান্তে সম্ভাব্য ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিষয়ে কথা বলেছিলেন। হিজবুল্লাহপ্রধান এটাকে সংগঠনের জন্য ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবেও চিহ্নিত করেছিলেন।
লেবানন সীমান্তে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ২১ দিনের অস্ত্রবিরতির যে প্রস্তাব দিয়েছে, তা প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রের এ প্রস্তাবে ইসরায়েল সাড়া তো দেয়ইনি, বরং শত শত মানুষ নিহত হওয়ার পরও দেশটিতে হামলা জোরদার করেছে। গত প্রায় এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের কোন কৌশল বা কূটনৈতিক তৎপরতা সংঘাত থামাতে পারেনি।








