প্রকৃত আসামি কানাডায়, নামের মিলে সাজা ভোগ করছিলেন অন্যজন

ছবি: সংগৃহীত
নাম ও ঠিকানার মিলের কারণে দুই যুগ আগের একটি অস্ত্র মামলায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি মো. আলমাছের পরিবর্তে প্রায় এক বছর ধরে কারাগারে ছিলেন মো. আলমাস। আদালতের নির্দেশে পরিচালিত অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয়েছে, তিনি ওই মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি নন। এ অবস্থায় তাকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
রোববার (৮ নভেম্বর) বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। কারা কর্তৃপক্ষকে আলমাসের মুক্তির ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নামের মিলের কারণে প্রকৃত আসামির পরিবর্তে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে দাবি করে হাইকোর্টে রিট করেন কারাগারে থাকা আলমাস। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ৬ সেপ্টেম্বর আদালত রুল জারি করেন। একই সঙ্গে আলমাস ও অস্ত্র মামলায় দণ্ডিত ব্যক্তির পরিচয় যাচাইয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে একজন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অনুসন্ধান করেন। ৪৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ ছিল। অনুসন্ধান শেষে আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে বলা হয়, কারাগারে থাকা আলমাস অস্ত্র মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি নন। প্রকৃত আসামি মো. আলমাছ বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করছেন।
প্রতিবেদনে ভুল ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পেছনে তিনটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রথমত, দুই ব্যক্তির ঠিকানায় মিল ছিল। গ্রেপ্তার হওয়া আলমাস ২০০৭ সালের আগে ঢাকার দোহারের দক্ষিণ বাহ্রা গ্রামে বসবাস করতেন। প্রকৃত আসামি আলমাছের গ্রামের নাম পূর্ব ধোয়াইর। দুটি গ্রামই দক্ষিণ বাহ্রা ডাকঘরের অধীন হওয়ায় ঠিকানা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
দ্বিতীয়ত, দুজনের বাবার নামেও আংশিক মিল রয়েছে। প্রকৃত আসামি আলমাছের বাবার নাম মো. খলিলুর রহমান ওরফে খলিল। অন্যদিকে গ্রেপ্তার আলমাসের বাবার নাম শেখ খলিল।
তৃতীয়ত, ২০০২ সালের অস্ত্র মামলার নথিতে প্রকৃত আসামির ঠিকানা পূর্ব ধোয়াইরের পরিবর্তে ভুল করে দক্ষিণ বাহ্রা লেখা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে রায় ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানাতেও সেই ভুল ঠিকানা বহাল থাকে।
রিটের নথি অনুযায়ী, ২০০২ সালের ১০ এপ্রিল মিরপুর থানায় অস্ত্র আইনে মো. আলমাছ ও মো. নাজমুল আলম মামুনের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ। ২০০৪ সালের ১৯ জুন ঢাকা মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১১ এ মামলার রায় দেন। রায়ে আলমাছকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অপর আসামি নাজমুল খালাস পান। রায় ঘোষণার সময় আলমাছ পলাতক থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়।
ওই পরোয়ানার ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর আলমাসকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি বন্দি ছিলেন।
এর আগে ‘নামের মিলে ১০ মাস ধরে কারাগারে, প্রকৃত আসামি কে তদন্তের নির্দেশ’ শিরোনামে গত ৪ অক্টোবর প্রথম আলোতে এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
রিট আবেদনকারীর পক্ষে আদালতে শুনানি করেন আইনজীবী মো. তানভীর আহমেদ ও আবদুল্লাহ আবু সাঈদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শিহাব উদ্দিন খান ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মহিউদ্দীন মো. হানিফ।






