জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফেনীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে কলেজছাত্র মাহবুবুল হাসান মাসুম (২৫) হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী, ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীসহ ১৭১ জনের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকালে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আমলী আদালতের বিচারক মোহাম্মদ হাসান চার্জশিট আমলে নিয়ে এ আদেশ দেন।
এর মধ্য দিয়ে ফেনীতে ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের ঘটনায় দায়ের ২২টি মামলার মধ্যে প্রথম কোন মামলার চার্জশিট গ্রহণ করলো আদালত।
২০২৫ সালের ৩১ জুলাই ২২১ জনের বিরুদ্ধে ফেনী সদর আমলি আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ফেনী মডেল থানার এসআই আলমগীর হোসেন জিআরও কোর্টে মাহবুবুল হাসান মাসুম হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন। মামলার নির্ধারিত তারিখে শুনানি শেষে বিচারক আদেশের জন্য অপেক্ষমান রাখেন।
এর আগে, ২০২৪ বছরের ৪ আগস্ট মহিপালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক দফা দাবির অসহযোগ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ওইদিন দুপুরে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সশস্ত্র হামলায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন মাসুম। তাকে প্রথমে ফেনীর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সরকার পতনের তিন দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ অগাস্ট মারা যান মাসুম।
মাহবুবুল হাসান মাসুম ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের তোরাব পাটোয়ারী বাড়ির মৃত মাওলানা নোমান হাসানের ছেলে। তিনি ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার আব্দুল হক চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ থেকে বাংলায় স্নাতক সম্পন্ন করেছিলেন।
এ ঘটনায় ওই বছরের ৪ সেপ্টেম্বর নিহতের ভাই মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান বাদী হয়ে ১৬২ জনের নাম উল্লেখ, আরও ৪০০-৫০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে ফেনী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

এ মামলায় এজাহারনামীয় ১২ জন এবং তদন্তে প্রাপ্ত ৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মুরাদ হাসান বাবুসহ তিন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
মামলার উল্লেখযোগ্য অন্য আসামিরা হলেন- ফেনী সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্র শীল, ফেনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী, ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল, দাগনভূঞা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের সভাপতি দিদারুল কবির রতন, পরশুরাম পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী সাজেল, সোনাগাজী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন, সোনাগাজী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ওরফে কোট খোকন, ছাগলনাইয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মোস্তফা, সাবেক সাংসদ নিজাম হাজারীর ব্যক্তিগত সহকারি ও যুবলীগ নেতা ফরিদ মানিক ওরফে পিএস মানিক, যুবলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম পিটু, ছাত্রলীগ নেতা জিয়া উদ্দিন বাবলু।









