এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
দীর্ঘ ২৪ বছর পর কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। কোয়ার্টার ফাইনালে জুড বেলিংহামের জোড়া গোলে নরওয়েকে হারিয়ে চতুর্থবারের মতো সেমিফাইনালে উঠেছে থ্রি লায়ন্সরা। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে শেষ চারে এসেছে আলবিসেলেস্তেরা। মাঠের লড়াইয়ে এই দুই দেশের ইতিহাস যেন বারুদঠাসা ও বিতর্কে ঘেরা।
২০০৫ সালের একটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল দুদল। এরপর আর কখনোই মুখোমুখি হয়নি তারা। বাংলাদেশ সময় আগামী বুধবার দিবাগত রাত ১টায় আটালান্টায় গড়াবে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। মহারণের আগে নেয়া দুই দলের বিতর্কিত ৫টি ইতিহাস।

১. দ্য হ্যান্ড অব গড ও গোল অব দ্য সেঞ্চুরি (১৯৮৬)
সবার আগেই থাকবে ডিয়েগো ম্যারাডোনার দ্য হ্যান্ড অব গড ও গোল অব দ্য সেঞ্চুরি। ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত অধ্যায় এটি। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ মিনিটে ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক পিটার শিলটনকে পরাস্ত করতে হাত দিয়ে বল জালে পাঠান ম্যারাডোনা। রেফারি আলি বিন নাসের গোলটির বৈধতা দেন, যা পরবর্তীতে ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে পরিচিতি পায়।
এই বিতর্কের ঠিক চার মিনিট পর ম্যারাডোনা করেন ফুটবল ইতিহাসের সেই অবিস্মরণীয় ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’। মাঝমাঠ থেকে একাই বল টেনে নিয়ে ইংল্যান্ডের ৪ জন খেলোয়াড় ও গোলরক্ষককে কাটিয়ে বল জালে জড়ান তিনি। ম্যাচটি আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে জেতে এবং পরবর্তীতে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়।

২. ডেভিড বেকহ্যামের লাল কার্ড (১৯৯৮)
১৯৯৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে ফুটবলের অন্যতম নাটকীয় মুহূর্তটি মঞ্চস্থ হয়। প্রথমার্ধে খেলা ২-২ সমতায় থাকার পর, দ্বিতীয়ার্ধের মাত্র দ্বিতীয় মিনিটে আর্জেন্টিনার দিয়েগো সিমিওনেকে লাথি মেরে লাল কার্ড দেখেন ডেভিড বেকহ্যাম। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া সত্ত্বেও ইংল্যান্ড ম্যাচটি টাইব্রেকার পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু পেনাল্টি শুটআউটে বরাবরের মতোই ভাগ্য সহায় হয়নি তাদের। ম্যাচটি জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে চলে যায় আর্জেন্টিনা।

৩. পচেত্তিনোর ফাউল ও বেকহ্যামের পেনাল্টি (২০০২)
২০০২ সালের বিশ্বকাপে গ্রুপপর্বের সেই ম্যাচে ১-০ গোলে জিতেছিল ইংল্যান্ড। প্রথমার্ধের শেষের দিকে মাইকেল ওয়েনকে ডি-বক্সের ভেতর ফাউল করার অপরাধে আর্জেন্টিনার মাউরিসিও পচেত্তিনোর বিরুদ্ধে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি পিয়েরলুইজি কোলিনা। ডেভিড বেকহ্যামের সেই পেনাল্টি গোলে জয় পায় ইংল্যান্ড এবং আর্জেন্টিনা গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নেয়।
তবে ২০১৬ সালে পচেত্তিনো এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, ওয়েন আসলে ডাইভ দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘ইংলিশ ফুটবল সবসময় ফেয়ার মনে করবেন না। ওয়েন সেদিন সুইমিং পুলে লাফ দেওয়ার মতো করে ডাইভ দিয়েছিল। আমি তাকে স্পর্শও করিনি।’

৪. চেরির মুখে বার্তোনির ঘুষি (১৯৭৭)
১৯৭৭ সালের এক প্রীতি ম্যাচের এই ঘটনাটি অনেকের স্মৃতিতে নাও থাকতে পারে। আইকনিক লা বোম্বোনেরা স্টেডিয়ামে ম্যাচের শেষ দিকে আর্জেন্টিনার দানিয়েল বার্তোনিকে পেছন থেকে মারাত্মক এক ট্যাকল করেন ইংল্যান্ডের ট্রেভর চেরি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বার্তোনি উঠে দাঁড়িয়ে সরাসরি চেরির মুখে এক জোরালো ঘুষি মারেন, যার আঘাতে চেরির সামনের দুটি দাঁত ভেঙে যায়। রেফারি দুঞ্জনকেই লাল কার্ড দেখান। এর মাধ্যমে চেরি ইংল্যান্ডের ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে কোনো প্রীতি ম্যাচে লাল কার্ড দেখার রেকর্ড গড়েন।

৫. মাঠ থেকে রাতিনকে সরাতে পুলিশের হস্তক্ষেপ (১৯৬৬)
১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে ওয়েম্বলিতে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনার আন্তোনিও রাতিনকে মাঠ থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন (তখন কার্ডের প্রচলন ছিল না, মুখে বলা হতো) জার্মান রেফারি রুডলফ ক্রেইটলেইন। কিন্তু ভাষার সমস্যার কারণে রাতিন মাঠ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান এবং ১০ মিনিট ধরে মাঠে দাঁড়িয়ে দোভাষী দাবি করেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে শেষ পর্যন্ত পুলিশ ডেকে রাতিনকে মাঠ থেকে বের করতে হয়েছিল।
এই ঘটনার পরই ফুটবল রেফারিংয়ে আমূল পরিবর্তন আসে এবং ১৯৭০ বিশ্বকাপ থেকে হলুদ ও লাল কার্ডের নিয়ম চালু করা হয়।







