এস্তাদিও মারাকানায় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ম্যাচে সহিংস ঘটনায় দুই দলই শাস্তি পেতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে শাস্তি প্রদানের উদ্দেশ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে ফিফা।
ব্রাজিলিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (সিবিএফ) ফিফার আদেশ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা লঙ্ঘন করেছে কিনা, এ বিষয়ে জন্য তদন্ত চলছে। দর্শকদের বিশৃঙ্খলা ও খেলা শুরু হতে আধা ঘণ্টা বিলম্বের দায়ে তদন্তের মুখে পড়েছে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)।
ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিবৃতিতে বলেছে, ফিফা নিশ্চিত করছে ডিসিপ্লিনারি কমিটি ব্রাজিলিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এবং আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
ব্রাজিলিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে স্টেডিয়ামে নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থ হওয়ায় ফিফা ডিসিপ্লিনারি কোডের ১৭ অনুচ্ছেদের আওতায় শাস্তি প্রদানের প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে।
অপরদিকে, আর্জেন্টাইন ফুটবল ফেডারেশনের বিরুদ্ধে দর্শকদের গোলযোগ সৃষ্টির জন্য ডিসিপ্লিনারি কোডের ১৭.২ অনুচ্ছেদে কার্যক্রম চলছে। একইসঙ্গে বিশ্বকাপ জয়ীরা ড্রেসিং রুমে চলে যাওয়ায় দেরিতে খেলা শুরু হয়েছিল। এর প্রেক্ষিতে ডিসিপ্লিনারি কোডের ১৪.৫ অনুচ্ছেদের আওতাও শাস্তির মুখে পড়তে পারে।
গত মঙ্গলবার বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচটি দেখার জন্য ৬৯ হাজার ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামে সব টিকিট আগেই বিক্রি হয়। সুপার ক্লাসিকো শুরুর আগেই গ্যালারিতে দুদলের সমর্থকরা মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে।
আর্জেন্টিনার জাতীয় সঙ্গীত বাজার সময় ব্রাজিলের সমর্থকেরা দুয়ো দিতে শুরু করলে ঘটনার সূত্রপাত হয়। তাতেই শুরু হয় সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুদলের সমর্থকদেরই লাঠিপেটা করে পুলিশ। আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা ড্রেসিং রুমে চলে যাওয়ায় ম্যাচ শুরু হতে দেরি হয় আধা ঘণ্টা।
ম্যাচ শেষে গণমাধ্যমে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি বলেন, ‘আমরা দেখেছি পুলিশ কিভাবে মানুষকে মারছে। আমাদের পরিবারের কিছু সদস্যও সেখানে উপস্থিত ছিল। কোপা লিবার্তাদোরেসের ফাইনালেও ব্রাজিলের পুলিশ একই কাজ করেছিল। মাঠের খেলার চেয়ে এসবেই তাদের বেশি মনোযোগ থাকে।’
পুলিশের লাঠিচার্জের পক্ষে বিবৃতি দিয়ে সিবিএফ বলেছিল, ‘ম্যাচের জন্য সকল পরিকল্পনা বিশেষ করে নিরাপত্তার বিষয়টি রিও ডি জেনিরোর গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার সবার সাথে আলোচনা করে নেয়া হয়েছিল। সিবিএফ আরও নিশ্চিত করেছে, ম্যাচের সময়ের কর্মকাণ্ড, নিরাপত্তা এবং পরিকল্পনা রিও’র মিলিটারি কর্তৃপক্ষ দ্বারা অনুমোদিত, সেটাই কঠোরভাবে পালন করা হয়েছে।’
মারাকানার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, ‘মাঠে বা মাঠের বাইরে ফুটবলের ক্ষেত্রে এই ধরনের সহিংসতার কোনো স্থান নেই। খেলোয়াড়, ভক্ত, দল এবং কর্মকর্তারা একটি নিরাপদ পরিবেশের দাবিদার।’







