বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে টানা দ্বিতীয় শিরোপা জেতা হল না আর্জেন্টিনার। শিরোপা মঞ্চে হারের পর আলবিসেলেস্তেদের অনেক সমর্থকই দাবি করেছিল, টুর্নামেন্টজুড়েই দলটি নানা ধরনের পক্ষপাত ও পরিকল্পিত সমালোচনার শিকার হয়েছে। সেই বিতর্ককে এবার আরও উসকে দিয়েছে আর্জেন্টিনার টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘তোদো নতিসিয়াস’। সম্প্রতি আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্রকারীদের’ একটি তালিকা প্রকাশ করেছে অনুষ্ঠানটি, যেখানে আছেন বিখ্যাত অভিনেতা-সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও।
অনুষ্ঠানটির উপস্থাপক জোনাথান ফিয়ালি দাবি করেন, বিশ্বকাপ চলাকালে এবং ফাইনালের আগে ও পরে বিভিন্ন দেশের প্রভাবশালী ব্যক্তি আর্জেন্টিনা ও তাদের খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন। তার মতে, এসব মন্তব্য শুধু সমালোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং আন্তর্জাতিক পরিসরে আর্জেন্টিনার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
তালিকার শীর্ষে রাখা হয়েছে মিসরের কোচ হোসাম হাসানকে। শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে বিদায়ের পর তিনি এক সাক্ষাৎকারে আন্তর্জাতিক ফুটবল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছিলেন। তার দাবি ছিল, মিসর একটি পেনাল্টি থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং তাদের একটি বৈধ গোল বাতিল করা হয়েছে। প্রশ্ন তুলেছিলেন, লিওনেল মেসিকে আরও এগিয়ে নিতে বা বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষার জন্য এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল কিনা।
তালিকায় আছেন জনপ্রিয় ব্রিটিশ সাংবাদিক পিয়ার্স মরগানও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের আচরণ নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন তিনি। লিখেছেন, ‘তাদের আচরণ ছিল জঘন্য, বিশেষ করে পারেদেসের। তারা একটি সহিংস দল এবং ফুটবলের জন্য কলঙ্ক।’ যদিও জোনাথান ফিয়ালি বলেছেন, ‘আমরা কি একজন ইংরেজ সাংবাদিকের মুখে এসব আজেবাজে কথা শুনছি?’
তালিকায় আছেন হলিউড অভিনেতা স্যামুয়েল এল. জ্যাকসনও। আর্জেন্টিনাকে বিশ্বের অন্যতম বর্ণবাদী দেশ হিসেবে উল্লেখ করায় তাকে ‘আর্জেন্টিনা বিরোধী’ অবস্থান নেয়া ব্যক্তিদের তালিকায় রাখা হয়েছে।
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সমর্থক হিসেবে পরিচিত জনপ্রিয় ইউটিউবার আইশো স্পিডও তালিকায় আছেন। বিশ্বকাপ চলাকালীন আর্জেন্টাইন সমর্থকদের সঙ্গে অনলাইনে ও সরাসরি বাকবিতণ্ডা, আর্জেন্টিনা বিরোধী প্রচারণা এবং স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের পর তার উচ্ছ্বাস প্রকাশের ঘটনাকে আর্জেন্টিনাবিরোধী আচরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
এ ছাড়া তালিকায় আছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম, স্প্যানিশ সংগীতশিল্পী রোসালিয়া এবং চিলির অভিনেতা পেদ্রো পাসকেল। অবশ্য তাদের ভূমিকা নিয়ে পৃথকভাবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি অনুষ্ঠানটিতে।
এই প্রতিবেদনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কেউ কেউ এটিকে একটি যৌক্তিক আত্মপক্ষ সমর্থন হিসেবে দেখেছেন। আবার অন্যরা এটিকে অতিরঞ্জিত বলে মনে করেছেন। তাদের মতে, সাধারণ সমালোচনাকেও আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।







