মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের নিয়ন্ত্রণে থাকা কয়েকটি শহরের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)। গোষ্ঠীটির দাবি, প্রাচীন আরাকান রাজ্যের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয় পুনঃপ্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মিয়ানমারের সংবাদ মাধ্যম দ্য ইরাবতী জানিয়েছে, আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে থাকা পাউকতাও শহরের নতুন নাম রাখা হচ্ছে বীরট্ঠানী, যার অর্থ ‘বীরদের আবাস’। অন্যদিকে মিনব্যা শহরের নাম পরিবর্তন করে রাখা হচ্ছে অঞ্জনপুর। প্রাচীনকালে রাখাইন অঞ্চলের লেমিও নদী ‘অঞ্জনা’ নামে পরিচিত ছিল। সেই ঐতিহাসিক নাম থেকেই নতুন নামকরণের প্রস্তাব এসেছে।
আরাকান আর্মির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, শুধু এই দুটি শহর নয়, মংডু ও সিত্তে জেলার আরও কয়েকটি শহরের নামও পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কোন কোন শহরের নাম বদলানো হবে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য, প্রস্তাবিত নতুন নামগুলো রাখাইনের প্রাচীন ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। বিশেষ করে মিনব্যা অতীতে লাংম্রো ও ম্রাউক-উ রাজবংশের সময় গুরুত্বপূর্ণ দুর্গনগর হিসেবে পরিচিত ছিল।
নাম পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রশাসনিক কাঠামোতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে আরাকান আর্মি। তাদের রাজনৈতিক শাখা ইউনাইটেড লিগ অব আরাকান ইতোমধ্যে নিজস্ব প্রশাসন গড়ে তুলেছে। এর অধীনে প্রশাসন, বিচার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন বিভাগ পরিচালিত হচ্ছে।
শিক্ষা খাতেও নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আরাকান আর্মির শিক্ষা বিভাগ রাখাইন ভাষায় নতুন পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে বার্মিজ ভাষার পরিবর্তে রাখাইন ভাষাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দ্বাদশ শ্রেণির নতুন পাঠ্যক্রম প্রস্তুত হলেও তা আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
চলতি বছর আরাকান আর্মি তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন রাখাইনের ১৪টি উপজেলা এবং পার্শ্ববর্তী চিন রাজ্যের পালেতওয়া উপজেলাকে পুনর্গঠন করে আটটি প্রশাসনিক জেলায় ভাগ করেছে।
আরাকান আর্মির প্রধান তুন মিয়াত নাইং ঘোষণা দিয়েছেন, ২০২৭ সালের মধ্যে সিত্তে, কিয়াউকফিউ ও মানাউং এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা তিনটি এলাকাও তাদের দখলে আনার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এই লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে।








