ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান সংহতকরণ, ছাত্র রাজনীতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিতকরণ ও ১৫ আগস্টে জাতীয় শোক দিবস পালন না করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
মঙ্গলবার ১৩ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে সুসংহত করার লক্ষ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে লিয়াজোঁ কমিটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটোরিয়ামে এক মতবিনিময় সভার এই সিদ্ধান্ত নেয়।
এতে ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ ও ছাত্রসমাজ ছাড়া বাংলাদেশের সকল ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধি ও সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ থেকে আসিফ মাহমুদ ও নাহিদ ইসলাম অংশগ্রহণ করেন। লিয়াজোঁ কমিটির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সমন্বয়ক মাহফুজ আলম, সদস্য নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী ও আরিফুল ইসলাম আদীব।
সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে সুসংহতকরণের লক্ষ্যে ন্যুনতম এক মাস বা পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও বেশি সময় সব ছাত্রসংগঠনগুলো ক্যাম্পাসগুলোতে নিজেদের আলাদা করে কোন কর্মসূচি দিবে না। বরং এ আন্দোলনের ব্যানারে ঐক্যবদ্ধভাবে গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে রক্ষা করার জন্য এবং সকল ধরণের প্রতিবিপ্লব রুখে দেয়ার জন্য লড়ে যাবেন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ব্যানার ব্যবহার করে কোন ছাত্র ক্যাম্পাসে বা অন্য কোথাও কারও ওপর নির্যাতন, নিপীড়ন, হুমকি কিংবা ট্যাগ-ব্লেইম দিতে পারবে না। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের কোন কর্মী বা নেতা ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে পারবে না। এছাড়াও ১৫ আগস্টকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালন না করার বিষয়ে সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। উপস্থিত সকল ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ এ সকল সিদ্ধান্তের সাথে লিখিতভাবে একমত পোষণ করেন।
ছাত্ররাজনীতির ধরন ও প্রকৃতি নিয়ে ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে এ অন্তর্বর্তী সময়ে সংলাপ অব্যাহত থাকবে এবং ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি চলবে কিনা সে বিষয়ে আলোচনা আন্দোলন অব্যাহত থাকা পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। তবে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কোন নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ছাত্রসংগঠনগুলোর ভূমিকা থাকবে না বলেও আলোচনা হয় সভায়।
সভায় জাতীয় শোক দিবস নিয়ে বিরোধিতার ব্যাখ্যায় বলা হয়, যেহেতু ১৫ আগস্টকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রতীকে রূপান্তর করা হয়েছে এবং এ দিবসকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আবারও সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ডের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে তাই জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা ও অভ্যুত্থান সংহত করার লক্ষ্যে ১৫ আগস্টকে রাষ্ট্রীয় শোক দিবস হিসেবে পালন করাটা সমীচীন নয়। নেতৃবৃন্দ জুলাই- আগস্টকে বাংলাদেশের জনগণের শোক, সংহতি ও প্রতিরোধের মাস হিসেবে তুলে ধরেন।










