নরসিংদীর চরাঞ্চল আলোকবালীর বীরগাঁও গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের জেরে দ্বিতীয় দিনে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নারী নিহত হয়েছে। নিহত ফেরদৌসী বেগম (৪৫) বীরগাঁও গ্রামের রায়েছ আলীর স্ত্রী।
শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে ইদন মিয়া (৫৫) নিহত হয়েছেন।
স্থানীয়রা জানায়, আলোকবালী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক শাহ আলম চৌধুরী ও বহিষ্কৃত সদস্য সচিব আব্দুল কাইয়ুম মিয়ার গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার, বালু উত্তোলন ও দখলদারিত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। কাইয়ুম মিয়া ও শাহ আলম চৌধুরী পৃথকভাবে দলীয় কর্মসূচি পালন করেন। উভয় গ্রুপের মধ্যে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও রয়েছেন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার ভোরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে বিএনপির কর্মী ইদন মিয়া নিহত হয়।
একই ঘটনায় নরসিংদী সদর হাসপাতালে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে যমুনা টিভির স্টাফ রিপোর্টর আইয়ুব খান সরকারের উপর হামলা চালায় বিএনপির নেতাকর্মীরা।
আলোকবালী ইউনিয়ন বিএনপি আহ্বায়ক শাহ আলম চৌধুরী বলেন, ‘আজ দুপুরে ইউনিয়ন বিএনপির বহিষ্কৃত সদস্য সচিব আব্দুল কাইয়ুম ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িতে স্পিডবোড নিয়ে এলোপাথারি হামলা চালায়। সন্ত্রাসী কাইয়ুমের কর্মীর গুলিতে আমার কর্মী ফেরদৌসী বেগম ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছেন। আমরা কাইয়ুমের বিচার দাবি করছি।’
তবে, সাবেক বহিষ্কৃত সদস্য সচিব আব্দুল কাইয়ুম মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দীপু ও বর্তমান সভাপতি আসাদ উল্লাহর লোকজন অবৈধ অস্ত্রে গুলি ঢুকাতে গিয়ে মহিলা গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। আমার কিংবা আমাদের দলের কোন নেতাকর্মীরা জড়িত নয়। গতকাল আমার একজন কর্মী ইদন মিয়াকে গুলি করে হত্যার পর ধারাবাহিক সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে আওয়ামী লীগের লোকজন। আমাদের উপর দায় চাপানোর জন্য পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে আমাদেরকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন। প্রশাসন তদন্ত করে এর সঠিক কারণ খুঁজে বের করবেন বলে আশা করছি।’
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন চন্দ্র সরকার বলেন, ‘বৃহস্পতিবার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের জেরে একজন খুন হয়েছে। একই ঘটনার ধারাবাহিকতায় আজ শুক্রবার আরেকজন নারী খুন হয়েছে। কে বা কারা খুনের সাথে জড়িত, সেটা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। ভুক্তভোগীর কানের নিচের অংশে বড় ধরনের গর্ত। সেটা প্রাথমিকভাবে গুলি মনে হচ্ছে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া বলা মুশকিল।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, ঘটনা আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত হত্যার ঘটনায় কোন মামলা দায়ের করা হয়নি।








