কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন আলোচিত দুদকের দায়ের করা মামলার আসামি জাহালম। রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে তিনি কাশিমপুর কারাগার পার্ট-২ থেকে মুক্তি পান।
এ সময় কারাফটকে জাহালমের ভাই সাহানুর মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় ভুল আসামি জাহালমকে সব অভিযোগ থেকে রোববার অব্যাহতি দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে মুক্তির নির্দেশ দেয়া হয়।
কাশিমপুর কারাগারের জেল সুপার সুব্রত কুমার বালা জানান: রাতে জাহালমের মুক্তি সংক্রান্ত কাগজপত্র আদালত থেকে কাশিমপুর কারাগারে এসে পৌঁছে। পরে তা যাচাই-বাছাই করে কারাগারের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে মুক্তি দেয়া হয়।
২০১৬ সালের ৬ জুন জাহলামকে নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ওই বছরই তাকে কাশিমপুর কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।
মুক্তি লাভের পর জাহালম জানান: দুদকের ভুলে তিনি বিনা কারণে তিন বছর জেল খেটেছেন। তাই দুদকের কঠিন বিচার চান। সঠিক তদন্ত করে যেন আসামি ধরা হয় এই আহবান জানান তিনি।
এ সময় তার ভাই সাহানুর মিয়া বলেন: যাদের ভুলের কারণে তার ভাই জেল খেটেছে তাদের বিচার এবং ক্ষতি পূরণ চান তারা।
কারা ফটক থেকে ভাই জাহালম বেরিয়ে আসায় খুশিতে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
রোববার হাইকোর্টের বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ জাহালমকে সব অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আদেশ দেন। নিরীহ পাটকল শ্রমিক জাহালমকে গ্রেপ্তার ও কারাগারে রাখার ঘটনায় দুদকের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আদালত। আদালত বলেন: বিনা দোষে জাহালামকে কারাগারে রাখা আরেকটি জজ মিয়ার নাটকের মতো ঘটনা।
সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে ‘৩৩ মামলায় ‘ভুল’ আসামি জেলে: ‘স্যার, আমি জাহালম, সালেক না’ প্রকাশিত শিরোনামের ওই প্রতিবেদনটি গত সোমবার আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট অমিত দাসগুপ্ত। এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার দুদকের মহাপরিচালক (আইন) মইনুল ইসলাম, দুদকের মামলার বাদী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল জাহিদ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়রে সচিবের একজন প্রতিনিধি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিবের মনোনীত প্রতিনিধিকে আদালত তলব করেন।








