বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের জন্য আগামী মাসের মধ্যে উদ্যোক্তাদের প্রায় সাড়ে চার হাজার একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজার বিডিবিএল ভবনে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) কার্যালয়ে আমান গ্রুপের ‘আমান অর্থনৈতিক অঞ্চল’কে চূড়ান্ত সনদ পত্র দেয়া হয়। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
পবন চৌধুরী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ১৫ বছরের মধ্যে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, এক কোটি লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আগামী ২০২১ সালের মধ্যে ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয়ের উদ্দেশ্যে কাজ করছে বেজা। এর অংশ হিসাবে ইতিমধ্যে ১০টি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানকে ১৩টি বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল করার প্রাক-যোগ্যতা সনদপত্র এবং দুইটিকে চূড়ান্ত সনদপত্র দেয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আমান অর্থনৈতিক অঞ্চলকে প্রাক-যোগ্যতা সনদপত্রের সব শর্ত পূরণ করায় চূড়ান্ত সদনপত্র দেয়া হয়।
তিনি বলেন, এসব অঞ্চল স্থাপনের জন্য এই পর্যন্ত ৭৫০ একর জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। ৫১১ একর জমি বরাদ্দের প্রস্তাব পাওয়া গেছে। আগামী দুই-এক মাসের মধ্যে আরো সাড়ে ৪ হাজার একর জমি বরাদ্দ দেয়া হবে।
অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে বলতে গিয়ে পবন চৌধুরী বলেন, কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কোনো ক্ষতি করবে না। এ ধরনের বিদ্যুৎ কেন্দ্র দরকার। কারণ আগামী ৪০-৫০ বছরেও বাংলাদেশে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিকল্প কিছু তৈরি হবে না।
আমান অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাউন্ডারীওয়াল নির্মাণ ও মাটি ভরাটসহ উল্লেখযোগ্য উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন হওয়ায় এখন চূড়ান্ত সনদপত্র দেয়া হয়। এটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা নদীর তীরে হারিয়া, সোনামোহি, বোদ্ধের বাজার মৌজার, সোনারগাঁও উপজেলার নারায়ণগঞ্জে ৮৩ একর জমির উপর অবস্থিত।
আগামী তিন-চার মাসের মধ্যে প্রায় সাড়ে তিন কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মিত আমান সিমেন্ট, আমান প্যাকেজিং লিমিটেড ও আমান শিপ বিল্ডিংয়ের পরীক্ষমূলক উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করা হবে। বিনিয়োগকারীদের জন্য বিদ্যুং ও গ্যাস সংযোগসহ অর্থনৈতিক অঞ্চলে সব ধরনের সুবিধা রাখা হয়েছে। এছাড়া পানি শোধনাগার প্ল্যান্ট, নোংরা পানি অপসারন, তরল বর্জ্য পরিশোধনাগার প্ল্যান্ট, কঠিন বর্জ্য অপসারন, অগ্নীনির্বাপন ব্যবস্থাসহ সব পরিবেশ বান্ধব ব্যবস্থা থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
ফুড ও বেভারেজ, শিপ বিল্ডিং, সিমেন্ট, এলপিজিসহ বিভিন্ন ধরনের শিল্প গড়ে তোলা হবে। এসব প্রতিষ্ঠানে ১২শ থেকে ১৩শ কোটি ডলার বিনিয়োগ আসবে বলেও আশা করছে আমান অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিকভাবে দক্ষ-অদক্ষ, নারী-পুরুষ মিলিয়ে তিন হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে। এরপর আগামী ৫ বছরের মধ্যে এ সংখ্যা ২০ হাজারে উন্নীত হবে বলে জানান আমান গ্রুপের চেয়ারম্যান।
লাইসেন্স প্রদান অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বেজার নির্বাহী সদস্য ড. এম এমদাদুল হক, মো. হারুনুর রশিদ, হরিপ্রসাদ পাল ও বেজা নির্বাহী বোর্ডের সচিব মোহাম্মদ আইয়ুব, আমান গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল ইসলাম, পরিচালক মো. তরিকুল ইসলাম প্রমুখ।








