রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত বিশ্বব্যাংক। কেবল রোহিঙ্গাদের জন্য কোন প্রকল্প নিলে বাংলাদেশকে ৪০ কোটি ডলার বা ৩২শ’ কোটি টাকা দিতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছেন সংস্থাটির কান্ট্রি ডিরেক্টর চিমিয়াও ফান। এছাড়া অক্টোবর মাসে ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংকের আসন্ন বার্ষিক সভায় রোহিঙ্গা ইস্যুটি আলোচনায় থাকবে বলেও জানান তিনি।
অর্থনীতির সাম্প্রতিকতম হালনাগাদ জানাতে বুধবার বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বিশ্বব্যাংক উদ্বিগ্ন জানিয়ে তিনি বলেন, সহিংসতার শিকার হয়ে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ ছেড়ে শরণার্থী হতে বাধ্য করা হয়েছে। তাদের জন্য মানবিক এবং জীবনযাত্রার উন্নয়নের জন্য জাতি সংঘসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বিশ্বব্যাংক। বাংলাদেশ সরকার চাইলে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সংকটে সহায়তা করতে আমরা প্রস্তুত আছি।
চিমিয়াও ফান বলেন,’শরণার্থী খাতে বিশ্বের জন্য বিশ্বব্যাংকের ২০০ কোটি ডলারের তিন বছরের একটি তহবিল আছে। সেখান থেকে দক্ষিণ এশিয়ার জন্য ৬০ কোটি ডলার বরাদ্দ রয়েছে। তবে একটি দেশ বিশ্বব্যাংকের অঙ্গভূক্ত ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ( আইডা) খাত থেকে এখাতে ৪০ কোটি ডলার পেতে পারে।সেক্ষেত্রে ওই দেশে শরণার্থীর সংখ্যা ২৫ হাজারের বেশি হতে হবে। বাংলাদেশে এখন রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা ২৫ হাজারের অনেক বেশি। ফলে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ সহায়তা পেতে পারে।’
এ সহায়তা ঋণ নাকি অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা নির্ভর করে শরণার্থীদের নিয়ে বাংলাদেশ প্রস্তাবনার ওপর। প্রস্তাবনা দেখে মোট সহায়তার অর্ধেক অনুদান ও অর্ধেক ঋণ হতে পারে, আবার পুরোটাও অনুদান হতে পারে।’
স্বাগত বক্তব্যে সংস্থাটির ঢাকা অফিস প্রধান চিমিয়াও ফান অর্থনীতিতে নানা সূচকে বাংলাদেশের অর্জনের প্রশংসা করেন। আবার রপ্তানীতে ধীর প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ধীরগতি, রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার মতো কয়েকটি চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গার বাড়তি চাপ অর্থনীতিতে কী ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে তা ব্যাখা করেন বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন।
তিনি বলেন, এত রোহিঙ্গার আগমনে জাতীয়ভাবে মূল্যস্ফীতিতে কতটা প্রভাব রাখবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না, তবে যেসব এলাকায় রোহিঙ্গারা ঢুকেছে সেসব এলাকায় মূল্যস্ফীতি বাড়ার সম্ভাবনাই বেশি।
মূল উপস্থাপনায় প্রবাসী শ্রমিক যাওয়ার হার বৃদ্ধির পরও রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন এই অর্থনীতিবিদ। এজন্য বিশ্বব্যাপী তেলের দাম পড়ে যাওয়া, ভূ-আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অনিশ্চয়তাকে দায়ী করেন তিনি।







